এভিকশন পেতেই চোখে জল! শো থেকে বেরিয়ে কার হাতে বিগ বসের ট্রফি দেখতে চান নন্দিনী দত্ত?

কথায় আছে, রাগ পতনের মূল। আর সেই রাগের বশেই ‘বিগ বস বাংলা’-এর ঘর থেকে সোজা আউট নন্দিনী দত্ত! সহ-প্রতিযোগী রাজবীরের গায়ে হাত তোলার চরম মাশুল গুনতে হল তাঁকে। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশে কান্নাকাটি করেও চিঁড়ে ভিজল না, শো থেকে তাঁকে বেরিয়ে যেতেই হল।

তবে বিগ বসের বাড়ি থেকে বিদায়বেলায় এক অন্য নন্দিনীর দেখা মিলল। বিগ বসের সেট থেকে বাড়ি ফেরার সময় নন্দিনীকে নিতে এয়ারপোর্টে এসেছিলেন তাঁর বাবা, মা এবং অভিনেত্রীর অত্যন্ত প্রিয় পোষ্য। এতদিন পর প্রিয় পোষ্য এবং কাছের মানুষদের কাছে পেয়ে কিছুটা হলেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। নিজের এই হঠাৎ বিদায় এবং আগ্রাসী আচরণ নিয়ে নন্দিনী সংবাদমাধ্যমের কাছে অকপটে জানিয়েছেন, “ভুল করলে তার মাশুল দিতে হবে।” আর বাস্তবে সেই চরম মাশুলই এখন তাঁকে দিতে হচ্ছে। রাগের মাথায় করা একটি ভুলের জন্য মাঝপথেই শেষ হল তাঁর বহু চর্চিত বিগ বস যাত্রা।

এদিকে বিগ বসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি বা পোস্ট শেয়ার করেছেন নন্দিনী। সেখানে তিনি তাঁর দর্শকদের উদ্দেশে নিজের ভুল স্বীকার করে খোলাখুলি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। নন্দিনী তাঁর ওই পোস্টে লিখেছেন: “আমার এই যাত্রায় যাঁরা সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে বলতে চাই, বিগ বসের বাড়িতে যা ঘটেছে তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই। পরিস্থিতি ভীষণ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, আবেগ চরম সীমায় পৌঁছেছিল, আর দুর্ভাগ্যবশত এমন কিছু ঘটেছে যা কখনও হওয়া উচিত হয়নি। আমি সেটা স্বীকার করছি এবং আমার আচরণের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি চিরকালই এমন একজন মানুষ যে খোলাখুলি বাঁচে, নিজের মনের কথা স্পষ্ট করে বলে এবং নিজের জন্য রুখে দাঁড়ায়। কিন্তু এটাও বুঝি যে কিছু সীমারেখা কখনও পার করা উচিত নয়।”

তিনি আরও লিখেছেন, “আমার সহ-প্রতিযোগী ও পার্টনারের কাছে এই ঘটনার জন্য এবং তাঁকে আঘাত দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। এই যাত্রা আমার কাছে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা, এবং আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা, সমর্থন ও সমর্থন দিয়েছেন, তার প্রতিটা মুহূর্তের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি এই অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি, এ থেকে শিক্ষা নিচ্ছি এবং মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ। ভালোবাসা সহ, নন্দিনী।”

যাঁর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে তাঁর এই পরিণতি, সেই রাজবীরের প্রতি কি আদেও কোনও ক্ষোভ রয়েছে নন্দিনীর? উত্তর হল, একেবারেই নয়! বরং বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নন্দিনী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি রাজবীরকেই এই শোয়ের ‘উইনার’ বা বিজয়ী হিসেবে দেখতে চান। একটি সাক্ষাৎকারে নন্দিনীকে রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে। সেখানে তিনি বেশ জোর গলাতেই বলেন, “আজকে আমি যেটুকুনি ভালোবাসা পেয়েছি, তো রাজবীর ছিল বলেই এটা হয়েছে। আর আমার মনে হয় রাজবীরও যে ভালোবাসাটা পেয়েছে, সেটা আমি ছিলাম বলেই হয়েছে।”

এর আগের সপ্তাহেও একবার নাটকীয়ভাবে ‘এভিক্টেড’ হয়েছিলেন নন্দিনী। সেবার তাঁকে ‘সিক্রেট রুম’-এ রাখা হয়েছিল। স্পেশাল পাওয়ার নিয়ে ফিরে এসে বাড়ির সবাইকে তিনি চমকে দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর ফিরে আসার পর রাজবীরের গেম প্ল্যান নিয়েও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। নন্দিনী না থাকায় রাজবীর নিজের মতো করে খেলছিলেন। কিন্তু নন্দিনী ফিরতেই ফের সেই পুরনো প্রেমিক-সুলভ আচরণে আটকে পড়েন তিনি। এবার নন্দিনী পাকাপাকিভাবে ‘এভিক্টেড’ হওয়ায় রাজবীরের খেলার স্ট্র্যাটেজি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মাথা উঁচু করে পরিবারের সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান নন্দিনী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *