উদ্বোধনের আগেই ৩০ লক্ষ টাকার প্যান্ডেল ছাই!, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মাথায় হাত পুজো কমিটির

পুজো উদ্বোধনের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিপর্যয়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেল একটি সুবিশাল কালীপুজোর মণ্ডপ। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থানার যশোড়াকালি বাজার এলাকায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। দমকলের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ততক্ষণে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার বাজেটে গড়ে ওঠা সুদৃশ্য মণ্ডপটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যদিও অন্য সব দিকও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছর ৫৯তম বর্ষে পদার্পণ করেছে যশোড়াকালি বাজারের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো। এ বার মণ্ডপ সজ্জার জন্য বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তালপাতা, পুরুলের জালি, নিম কাঠ এবং কাঠের গুঁড়োর মতো দাহ্য সামগ্রী। মণ্ডপ তৈরিতে এই ধরনের উপাদান ব্যবহার করায় আগুনের শিখা চোখের পলকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় গোটা মণ্ডপটিকে।

ঘটনার সময় মণ্ডপের ভিতরে পুজো কমিটির বেশ কয়েকজন কর্মী ও সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে আকস্মিক ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়েই তাঁরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এর ফলে বড় ধরনের কোনও প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পাঁশকুড়া থানার আইসি, ট্র্যাফিক ওসি, কোলাঘাটের ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর এবং দমকল বিভাগের পদস্থ আধিকারিকেরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

এত বড় একটি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েও ভেঙে পড়েননি উদ্যোক্তারা। বরং চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁরা অদম্য মনোবলের পরিচয় দিয়েছেন। পুজো কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, এই বিশাল ক্ষতির পরেও পুজো কোনোভাবেই বন্ধ রাখা হবে না। ছোট আকারে হলেও নিয়মরীতি মেনে মা কালীর পুজো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। নতুন করে কীভাবে পুজোর আয়োজন করা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিটির সমস্ত সদস্যদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য গোপাল মাইতি আক্ষেপের সুরে জানান, “মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। তবে হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পুজো হবেই।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *