টেস্ট থেকে বিদায় নিলেন মহম্মদ শামি! ১৩ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে ইতি টেনে কী বললেন তারকা পেসার?

ভারতীয় ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছরের টেস্ট কেরিয়ারকে বিদায় জানালেন ভারতের অন্যতম সেরা পেসার মহম্মদ শামি। গত ৬ নভেম্বর, ঠিক তেরো বছর আগে যে ইডেন গার্ডেন্সে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল, সেই একই দিনে ঐতিহাসিক লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করেন বাংলার এই স্পিডস্টার। ২০২৩ সালের জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল তাঁর কেরিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও জাতীয় টেস্ট দলে আর জায়গা পাননি তিনি। শামির এই আকস্মিক অবসরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
শামির এই বিদায় একেবারেই ভালোভাবে নেননি ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী। তাঁর মতে, শামির মতো বিশ্বমানের বোলারকে যেভাবে জাতীয় দল থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শাস্ত্রীর জোরালো দাবি, টেস্ট ক্রিকেটে শামির ঝুলিতে আরও অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি উইকেট যোগ হওয়ার ক্ষমতা ছিল। গত ১২ মাসের মধ্যে তাঁকে অন্তত আরও একটি টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন প্রাক্তন কোচ। নির্বাচকদের একাংশের যুক্তি ছিল যে পাঁচ টেস্টের দীর্ঘ সিরিজে বোলিং করার মতো ফিটনেস বা ওয়ার্কলোড শামির নেই। কিন্তু সেই যুক্তিকে সরাসরি খারिज করে দিয়েছেন শাস্ত্রী। তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর চেয়ে মাঠে নেমে ১০-১২ ওভার বল করার সক্ষমতাই একজন পেসারের আসল ফিটনেসের পরিচয় দেয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স শাস্ত্রীর এই দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। ২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ রঞ্জি ট্রফির প্রথম তিন ম্যাচেই ১৪টি উইকেট শিকার করেছেন শামি। ১৪.০ অনুপাতের দুর্দান্ত বোলিং গড়ে দিল্লির বিরুদ্ধে ৫৯ রানে ৫ উইকেট এবং মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর ছন্দে রয়েছেন। বাংলার হয়ে নিয়মিত ১৫ থেকে ২০ ওভার বল করার পরও তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তবে টেস্ট ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াচ্ছেন না শামি। রঙিন পোশাকের ক্রিকেট অর্থাৎ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ খেলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর সামনে। রবি শাস্ত্রীর মতে, শামির মতো অভিজ্ঞ পেসারকে এখনই ভারতীয় দলের পরিকল্পনা থেকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা ভুল হবে। ভবিষ্যতে দলের কোনো অভিজ্ঞ পেসার চোটাঘাতের কবলে পড়লে শামির অভিজ্ঞতা ভারতীয় দলের বিরাট কাজে লাগতে পারে। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ৬৪টি টেস্ট ম্যাচে ২২৯টি উইকেট, ২৭.৭১ বোলিং গড় এবং ৬ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার চোখধাঁধানো রেকর্ডের মালিক শামি তাঁর এই বর্ণময় লাল বলের অধ্যায় সমাপ্ত করলেন। এখন কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর নজর থাকবে সাদা বলের ক্রিকেটে শামি কবে ফের জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন, সেই দিকেই।