ইতালির সোনিয়া কীভাবে হয়ে উঠলেন ভারতের গান্ধী পরিবারের ‘বৌমা’? আত্মজীবনীতে রাজীবের সঙ্গে প্রথম ডেটিং ও তন্দুরি চিকেনের গোপন স্মৃতি!

ইতালির সুদূর ভেনেতো অঞ্চলের ভিনদেশি সংস্কৃতি থেকে সোজা ভারতের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুর সর্বোচ্চ শিখর—এই দীর্ঘ যাত্রাপথ আর ব্যক্তিগত জীবনের বহু না-বলা অধ্যায় নিয়ে আসছে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ (Belonging: A Journey of Love)। আগামী ১০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে এই মেগা বুকটি। তবে তার আগেই শুক্রবার প্রকাশনা সংস্থা হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া বইটির বেশ কিছু অংশ প্রকাশ্যে এনেছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও নেটদুনিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রাজীবের সঙ্গে প্রথম ডেটে তন্দুরি চিকেনের অভিজ্ঞতা!

ইতালির হালকা ও ভিন্ন স্বাদের খাবারে অভ্যস্ত এক তরুণীর কাছে ভারতের চটপটা মশলাদার খাবার যে এক্কেবারে অন্যরকম ঠেকবে, সেটাই স্বাভাবিক। বইটির প্রকাশিত অংশ অনুযায়ী, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম ভারতীয় খাবারের অভিজ্ঞতা হিসেবে সোনিয়া প্রথম চেখে দেখেছিলেন ‘তন্দুরি চিকেন’। উজ্জ্বল লাল রঙ, তন্দুরের গায়ে হালকা পোড়া গন্ধ আর ভারতীয় মশলার ঝাঁঝালো তীব্রতা—সব মিলিয়ে প্রথম অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে ছিল বেশ রোমাঞ্চকর ও নতুন।

ধীরে ধীরে অবশ্য রাজীবের হাত ধরে শ্বশুরবাড়ির হেঁশেলের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেন তিনি। গান্ধী পরিবারের ডাইনিং টেবিলে ভাত, রুটি, মাছ, মাংসের পাশাপাশি রোজকার পাতে একটি পদ থাকত যা একেবারে বাধ্যতামূলক—তা হলো সুস্বাদু অরহর ডাল। ভিনদেশি সংস্কৃতি থেকে এই ভারতীয় রান্নাবান্না ও খাদ্যাভ্যাস কীভাবে তাঁর প্রতিদিনের জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠল, তার এক চমৎকার বিবরণ রয়েছে এই বইতে।

শৈশব থেকে রাজনীতি: কী কী থাকছে আত্মজীবনীতে?

  • কেমব্রিজের প্রেম ও পরিণয়: ১৯৫৫ সালে ইতালিতে জন্ম নেওয়া সোনিয়ার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শৈশব, কেমব্রিজে পড়াশোনার সময় ১৯৬৫ সালে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম দেখা, প্রেম এবং পরবর্তীতে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে বধূ হয়ে আসার গল্প।

  • সাংস্কৃতিক লড়াই: ভিনদেশি পটভূমি থেকে এসে ঝরঝরে হিন্দি শেখা, শাড়ি পরা রপ্ত করা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির জটিলতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কণ্টকাকীর্ণ অথচ সুন্দর পথচলা।

  • জীবনের মর্মান্তিক বিপর্যয়: ১৯৮০ সালে সঞ্জয় গান্ধীর আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনা, ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৯১ সালে স্বামী রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক প্রয়াণের মতো বড় বড় ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির ক্ষত ও তার মোকাবিলা করার মানসিক লড়াই।

  • ক্ষমতা ত্যাগ ও নেতৃত্ব: ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট জয়ী হওয়ার পরেও নিজের ইচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ প্রত্যাখ্যান করে দলকে টিকিয়ে রাখার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্য কারণ।

পাণ্ডুলিপি নিয়ে টানাপোড়েন ও আত্মপ্রকাশ

উল্লেখ্য, গত মাসেই বইটির প্রচ্ছদ ও প্রকাশের ঘোষণা করা হলেও প্রথমে তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। মূল প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউসের সঙ্গে লেখিকার প্রতিনিধিদের পাণ্ডুলিপির সম্পাদনা নিয়ে কিছু মতপার্থক্য দেখা দেয়। পরবর্তীতে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া বইটি প্রকাশের সম্পূর্ণ দায়িত্বভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়।

রাজনীতি, প্রেম, পরিবার এবং ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির এক অপূর্ব সংমিশ্রণে তৈরি সোনিয়া গান্ধীর এই আত্মজীবনী যে ভারতীয় প্রকাশনা জগতে এক নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *