রেস্তোরাঁর ফ্রিজ খুলতেই চোখ ছানাবড়া অফিসারদের! বাসি মাংস থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ মাখন, দীপাবলির মুখে দুর্গাপুরে চরম হুলস্থুল

উৎসবের মরশুমে শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে যখন ভোজনরসিকদের উপচে পড়া ভিড়, ঠিক তখনই দুর্গাপুরে সামনে এল এক ভয়াবহ ও অস্বাস্থ্যকর চিত্র। দীপাবলির ঠিক মুখে দুর্গাপুর শহরের একাধিক নামজাদা হোটেল ও রেস্তোরাঁয় আচমকা ঝটিকা অভিযান চালাল জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতর (Food Safety Department)। আর সেই অভিযানেই ফ্রিজের ভিতর থেকে উদ্ধার হলো দিনের পর দিন ধরে জমে থাকা বাসি গ্রেভি, পচা মুরগির মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ পাঁউরুটি এবং মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত মাখন!
আমজনতার স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে খাদ্য সুরক্ষা অফিসাররা একযোগে শহরের একাধিক রেস্তোরাঁয় হানা দেন। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁগুলির রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করতেই উঠে আসে এক অত্যন্ত শঙ্কাজনক দৃশ্য।
ফ্রিজ খুলতেই মিলল বাসি মাংসের পাহাড়!
অভিযান চলাকালীন আধিকারিকরা দেখতে পান, বহু রেস্তোরাঁতেই পুরনো বেঁচে যাওয়া মাংসের গ্রেভি এবং প্রক্রিয়াজাত বাসি মুরগির মাংস মাসের পর মাস ফ্রিজে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গ্রাহকদের প্লেটে পরিবেশন করার জন্য যে মাখন এবং পাঁউরুটি ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেগুলির বেশির ভাগেরই মেয়াদ (Expiry Date) বহু আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। মাখন থেকে বেরোচ্ছিল কটু দুর্গন্ধ এবং পাঁউরুটিতে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক ধরে যাওয়ার প্রমাণও মেলে।
খাদ্য সুরক্ষা বিধির তোয়াক্কা না করে কীভাবে সাধারণ মানুষের শরীর নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা হচ্ছিল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
হোটেল কর্তৃপক্ষকে কড়া জরিমানা ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করার এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে ঘটনাস্থলেই মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে বাতিল করা হতে পারে কয়েকটি খাবারের দোকানের লাইসেন্সও।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সাথে কোনোভাবেই সমঝোতা করা হবে না। শহরের অন্যান্য প্রান্তের হোটেল এবং ক্যাফেগুলিতেও এই ধরণের সারপ্রাইজ ভিজিট ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ আগামী দিনে অব্যাহত থাকবে। অভিযান চলাকালীন অস্বাস্থ্যকর সমস্ত খাবার এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ সামগ্রী ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।