রাত ১০টা ১০-এ সন্দেশখালিতে ভয়ংকর তাণ্ডব! ক্যানিংয়ে থাকা প্রাক্তন তৃণমূল নেতার ঘর পুড়ে ছাই, নেপথ্যে বড় চক্রান্ত?

উত্তর ২৪ পরগনার উত্তপ্ত রাজনৈতিক মানচিত্রে ফের বড়সড় নাশকতার ছায়া! বৃহস্পতিবার রাতেই সন্দেশখালি থানার বউ ঠাকুরণী এলাকায় একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দিলীপ মল্লিকের তালাবন্ধ বসতবাড়িতে আচমকা আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। ঘড়িতে তখন ঠিক রাত দশটা বাজার মিনিট দশেক পর। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় গোটা বাড়িটিকে।
তবে ঘটনার সময় বাড়িতে দিলীপ মল্লিক বা তাঁর পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকায় বড়সড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ক্যানিংয়ে ঘরছাড়া অবস্থায় থাকা এই প্রবীণ নেতার বাড়িতে এমন রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
“সিসিটিভি ভাঙা থেকে পেট্রল ঢালা”—অভিযোগের তীর দুষ্কৃতীদের দিকে
রাজনৈতিক হিংসা ও চক্রান্তের কারণেই যে এই অগ্নিকাণ্ড, তা নিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ ক্ষতিগ্রস্ত মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা দিলীপ মল্লিক। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই মিথ্যে মামলায় ফেঁসে গিয়ে তিনি এলাকা ছাড়া এবং ক্যানিংয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি বলেন, “পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে আমার ফাঁকা বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। এর আগেও আমার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে চুরমার করা হয়েছিল এবং দরজা ভেঙে ভেতরে চরম লুটপাট চালানো হয়। এমনকী কিছুদিন আগেই দিনের আলোয় বেড়া কেটে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু গ্রামবাসীরা দেখে ফেলায় সে যাত্রা রক্ষা পাই। কিন্তু এবার রাতের অন্ধকারে আমার সব আসবাবপত্র ও জীবনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হলো। আমি পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছি।”
আগুনের উত্তাপে এগোতে পারেননি প্রতিবেশীরাও!
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাত দশটা নাগাদ ফাঁকা বাড়িটি থেকে হঠাৎই ধোঁয়া ও আগুনের বিশাল লেলিহান শিখা দেখতে পান গ্রামবাসীরা। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী সুনীল সরদার জানান, “রাত ১০টা ১০ নাগাদ বাইরে বেরিয়ে দেখি বাড়ির কোণা দিয়ে ভয়ংকর আগুন উঠছে। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে গেলেও আগুনের তীব্রতা ও উত্তাপ এতটাই মারাত্মক ছিল যে কেউ কাছে এগোতে পারিনি। কারা কীভাবে আগুন লাগাল বোঝা যায়নি। পরে সিভিক ভলান্টিয়ার ও প্রশাসনের সহযোগিতায় গ্রামবাসী মিলে জল দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দিলীপ মল্লিকের বিধ্বস্ত দিদি গীতা মণ্ডলও। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ঘরের ভেতরের চাল, আলমারি, খাট থেকে শুরু করে সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
তদন্তে নামল সন্দেশখালি থানার পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই সন্দেশখালি থানার পুলিশ বাহিনী পৌঁছায় বউ ঠাকুরণী এলাকার দুর্ঘটনাস্থলে। আগুন লাগার আসল উৎস কী, এটি নিছকই কোনো দুর্ঘটনাজনিত আগুন নাকি পূর্বপরিকল্পিত কোনো বড়সড় রাজনৈতিক নাশকতা—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশ। তবে স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ায় তদন্তকারী আধিকারিকরা এখনই সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।