দিল্লি না গেলেই কড়া শাস্তি!’ বাংলায় যুব কংগ্রেসের ২৬ শীর্ষ নেতা সাময়িক বরখাস্ত, তোলপাড় হাত শিবির

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের মেগা প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ না দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসে নামল কড়া শাস্তির কোপ। হাইকম্যান্ডের নির্দেশে এক ধাক্কায় বরখাস্ত করা হল প্রদেশ যুব কংগ্রেসের ২৬ জন শীর্ষ নেতাকে, যার মধ্যে রয়েছেন ৬ জন প্রভাবশালী জেলা সভাপতি। শুধু বরখাস্তই নয়, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই চরম পদক্ষেপের পাশাপাশি মাইনরিটি সেলের আরও ২৭ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর (Show-Cause) নোটিস পাঠানো হয়েছে। উৎসবের মরশুমে আচমকা দলীয় এই মেগা অ্যাকশনে রাজ্য রাজনীতি তো বটেই, প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরেও প্রবল জল্পনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

বরখাস্তের তালিকায় কারা এবং কেন এই ব্যবস্থা?

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসের অফিশিয়াল লেটারহেডে জারি করা এক নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দিল্লির রামলীলা ময়দানের হাই-প্রোফাইল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও গুরুত্বর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব।

সাসপেন্ড হওয়া ৬ জন জেলা যুব সভাপতি হলেন:

  • সুকমল বর্মন (কোচবিহার জেলা যুব সভাপতি)

  • নবীনেন্দু মৌলিক (জলপাইগুড়ি জেলা যুব সভাপতি)

  • মামুন রেজা (উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব সভাপতি)

  • মিঠুন সরকার (পূর্ব বর্ধমান জেলা যুব সভাপতি)

  • অভিষেক গুপ্ত (উত্তর কলকাতা জেলা যুব সভাপতি)

  • ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল (দক্ষিণ কলকাতা জেলা যুব সভাপতি)

প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি সৌরভ প্রসাদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ এবং কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“টিকিট মেলেনি, ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করা সম্ভব নয়!”—রোহন মিত্রের বিস্ফোরক তোপ

দলীয় এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সাধারণ পরিবারের দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার জন্য মানবিক আবেদন জানিয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সোমেন-পুত্র রোহন মিত্র।

রোহন মিত্র যুব নেতৃত্বের সমর্থনে চাঁচাছোলা ভাষায় বেশ কিছু বাস্তব ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন: ১. উৎসবের মরশুমে টিকিটের আকাল: পুজো ও দীপাবলির মাঝে হঠাৎ করে কলকাতা বা উত্তরবঙ্গ থেকে দিল্লি যাওয়ার ট্রেনের টিকিট পাওয়া কার্যত অসম্ভব ছিল। ২. বিমানের বিপুল খরচ: হঠাৎ বিমানে যেতে হলে এক একজন সাধারণ কর্মীর যাতায়াত খরচ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা অনেকের ১ মাসের রোজগারের চেয়েও বেশি। ৩. আর্থিক অস্বস্তি ও অলিখিত চাপ: সাধারণ পরিবার থেকে আসা কর্মীরা অন্যের কাছ থেকে টাকা বা ‘ফেভার’ নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে গেলে ভবিষ্যতে অলিখিত প্রতিদানের মারাত্মক চাপ থাকে।

‘পুরনো লড়াকু কর্মীদের মনোবল ভাঙবেন না’

রোহন মিত্র আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “আজকে যুব কংগ্রেসে এমন অনেকে আসছেন যাঁরা কিছুদিন আগেও শাসকদল তৃণমূলের শক্ত পদে ছিলেন এবং আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল। কিন্তু যাঁরা দীর্ঘদিন কোনো ক্ষমতার সুবিধা ছাড়াই মার খেয়ে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর আদর্শ বুকে নিয়ে বাংলায় কংগ্রেসের পতাকা ধরে রেখেছেন, তাঁদের এভাবে বরখাস্ত করে মনোবল ভেঙে দেওয়া অনুচিত।”

তিনি সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে পুরো বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক অন্ধত্ব দিয়ে না দেখে বাস্তব পরিস্থিতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করে বরখাস্তের আদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *