‘পাওয়ার সাহেবের হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেও মাথায় ঘুরছে…’ সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমে চরম সত্য ফাঁস করলেন শিন্ডে!

মহারাষ্ট্রের চলতি রাজনৈতিক ডামাডোল এবং চরম টানাপোড়েনের মাঝেই দেখা গেল এক অনন্য ও বিরল সৌজন্যের চিত্র। দক্ষিণ মুম্বইয়ের বিখ্যাত ব্রিচ ক্যান্ডি (Breach Candy Hospital) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এনসিপি (এসসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছলেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতার শয্যাপাশে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন শিন্ডে।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জল্পনা খারিজ করেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বৈঠক নয়, বরং নিছকই একটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ। শিন্ডের কথায়, “রাজনীতির ঊর্ধ্বেও সম্পর্ক বলে কিছু বিষয় থেকে যায়। পাওয়ার সাহেবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু ভোটের সমীকরণ বা রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি পারিবারিক বন্ধন। আজ আমি কেবল ওঁর স্বাস্থ্যের হালহকিকত জানতেই এসেছিলাম।”

কৃষক নিয়ে উদ্বেগে ৮০ পার করা পাওয়ার শারদ পাওয়ারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে শিন্ডে জানান যে তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন চিকিৎসাধীন প্রবীণ নেতার মনোভাব দেখে। শিন্ডে বলেন, “অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থেকেও পাওয়ার সাহেব আমাকে রাজ্যের কৃষকদের পরিস্থিতি নিয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন! হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যেও যে উনি সাধারণ চাষীদের নিয়ে আলোচনা করছেন, এটা সত্যিই এক বিরাট ব্যাপার এবং ওঁর জননেতা হিসেবে দায়বদ্ধতার প্রমাণ।”

প্রসঙ্গতঃ, পুণের রুবি হল ক্লিনিক থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গত বুধবার দক্ষিণ মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল শারদ পাওয়ারকে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে আশ্বস্ত করে জানান যে, সমস্ত শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর শনিবারই (৭ই নভেম্বর) হাসপাতাল থেকে সরকারিভাবে ছুটি দেওয়া হতে পারে প্রবীণ এই রাষ্ট্রনেতাকে। ভোটের মৌসুমে দলীয় মতাদর্শিক লড়াই পেছনে ফেলে এই দুই হেভিওয়েট নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অন্যরকম ইতিবাচক বার্তা দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *