সবাই বেড়াতে গিয়েছি’—ফোনে বানিয়ে বলত ঘাতক! বেঙ্গালুরুতে নিখোঁজ ৭ আত্মীয়ের আসল সত্য ফাঁস করল পুলিশ

পারিবারিক চরম শত্রুতা ও মানসিক কলহের জেরে নিজের স্ত্রীর পরিবারের সাত-সাত জন সদস্যকে এক এক করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল বেঙ্গালুরুর এক ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে। হাড়হিম করা এই গণহত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত ক্যাব চালক ইন্দ শেখরকে ইতিমধ্যেই জালে তুলেছে কর্নাটক পুলিশ। এমনকি অত্যন্ত নৃশংস ও ঠান্ডা মাথার এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নিজের নাবালিকা কন্যাকে ‘মগজধোলাই’ করে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে।

নন্দী পাহাড়ে উদ্ধার ৭ বছরের শিশুর দেহ!

হত্যাকাণ্ডের শিকার নিখোঁজ সাতজন সদস্যের খোঁজে গোটা রাজ্য জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল কর্নাটক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী টিম (SIT)। তদন্ত চলাকালীন চিক্কাবল্লাপুর জেলার বিখ্যাত নন্দী পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে পুনীত নামে এক সাত বছরের নিচ্ছাপ শিশুর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বাকি ছয় ভুক্তভোগীর মৃতদেহের সন্ধানে বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মেগা চক্রান্ত: মেয়েকে দিয়েই ফাঁদে ফেলা হতো শিকারদের!

শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে জানান, এটি একটি চরম সুপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার চক্রান্ত। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত ইন্দ শেখর নিজের নাবালিকা মেয়েকে সম্পূর্ণ মগজধোলাই করে এই মারাত্মক অপরাধে সাহায্য করতে বাধ্য করেছিল। স্ত্রীর পরিবারের লোকজনকে এক এক করে নিশানা বানিয়ে খুন করার পর বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেহগুলি গুম করা হয়। সম্পত্তিগত কোনো ঝামেলা নাকি অন্য মারাত্মক কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, অভিযুক্ত চালক তার কিশোরী মেয়েকে দিয়ে বারবার ফোন করিয়ে স্ত্রীর পরিবারের লোকজনকে নিজেদের বাড়িতে ডেকে আনত। বাবার চক্রান্ত বুঝতে না পেরে বা প্রভাবে পড়ে সেই অমায়িক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই একে একে তাঁরা ইন্দ শেখরের আস্তানায় আসেন এবং জল্লাদের মতো আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারান। ঘটনার পর থেকে ওই নাবালিকা মেয়েটিও নিখোঁজ, তার সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

বিভ্রান্তিকর মোবাইল মেসেজ ও পুলিশের জালে ধরা পড়া

পরিবারের একাধিক সদস্য হঠাৎ আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর সন্দেহ দানা বাঁধে। সেই সুযোগে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিহতদের মোবাইল ফোন নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিল অভিযুক্ত ইন্দ শেখর। সেখান থেকে আত্মীয়দের কাছে বার্তা পাঠানো হতো যে তাঁরা সকলে মিলে দূরে কোথাও ভ্রমণে গেছেন!

তবে শ্রীরামপুরা ও রাজাজিনগর থানার পুলিশ আধিকারিকরা উন্নত মোবাইল লোকেশন ট্র্যাকিং শুরু করতেই সত্য সামনে চলে আসে। পুলিশ দেখতে পায় যে নিখোঁজ সমস্ত ব্যক্তির মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন একই জায়গায় দেখাচ্ছে। এরপরই সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে ক্যাব চালক ইন্দ শেখরের ওপর। পুলিশ তাকে তুলে এনে কড়া জেরা শুরু করতেই সে নিজের মুখে স্বীকার করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা।

নিহত ৭ সদস্যের তালিকা:

তদন্তে পুলিশের হাতে যে তালিকা এসেছে, সেই অনুযায়ী নিহতরা হলেন:

  • ইন্দ শেখরের স্ত্রী সুনীতা

  • শাশুড়ি রূপাবতী

  • দুই শালা শিবকুমার ও শঙ্কর

  • দুই শ্যালিকা/ভাদোবৌ দিব্যা ও নলিনী

  • এবং ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু পুনীত।

প্রাথমিক ধারণা, শিলনোড়া দিয়ে মাথা থেঁতলে বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের পর গভীর রাতে নিজের ক্যাব গাড়িতে চাপিয়ে দেহগুলি রাজ্যের বিভিন্ন নির্জন জেলায় ছড়িয়ে রেখে আসা হয়েছে। ধৃত ক্যাব চালককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বাকি দেহগুলি উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *