ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফ বনাম গ্রামবাসী ধুন্ধুমার! ১৮ জন গ্রেপ্তার, জিরো টলারেন্সের কড়া নির্দেশ মানিক সাহার

ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ ജওয়ানদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে আরও ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ফলে এই হিংসাত্মক ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮ জনে। শুক্রবার ত্রিপুরা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বর্ডার আউটপোস্টে হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা

পুলিশ সূত্রে খবর, গত সোমবার সিপাহীজলা জেলার আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) সংলগ্ন এলাকায় এক চোরাচালানকারী সন্দেহে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আটক করেন বিএসএফ জওয়ানরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মুহূর্তের মধ্যে শতাধিক উত্তেজিত গ্রামবাসী দলবদ্ধ হয়ে বিএসএফ জওয়ানদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মারে বিএসএফের এক সহকারী কমান্ড্যান্ট (Assistant Commandant)-সহ মোট ৩ জন জওয়ান গুরুতর আহত হন। কেবল জওয়ানদের শারীরিক নিগ্রহই নয়, উত্তেজিত জনতা বিএসএফ-এর একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সীমান্তরক্ষীদের হাতের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ।

কড়া অ্যাকশনে পুলিশ ও প্রশাসন

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে ত্রিপুরা পুলিশ। পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, “আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নতুন করে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গত ২রা নভেম্বরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে ১০ জন গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে মোট ১৮ জনকে জালে তোলা সম্ভব হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার হাই-লেভেল বৈঠক ও নির্দেশ

সীমান্তের এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির পর রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক ডাকেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বৈঠকে রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ, বিএসএফ, সিআরপিএফ (CRPF) এবং অসম রাইফেলসের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানান, “আমরা আশাবাড়ির পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। জওয়ানদের ওপর হামলায় জড়িত প্রতিটি অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত চোরাচালানের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কয়েকগুণ জোরদার করার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *