পাকিস্তানের রহস্যময় দ্বীপে লস্করের ‘ন্যাভি ক্যাডার’! ভারতের জন্য কেন বড় বিপদ ডেকে আনছে করাচির খবর?

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সেই অভিশপ্ত রাতের কথা ভারতবাসী আজও ভোলেনি। সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে করাচি থেকে জলযানে চেপে এসে বাণিজ্যনগরীতে রক্তের হোলি খেলেছিল লস্কর-ই-তইবার ১০ জঙ্গি। মারা গিয়েছিলেন ১৬৬ জন নিরপরাধ মানুষ। এবার সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি উস্কে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা রিপোর্ট।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা NDTV-র এক বিস্ফোরক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র চরনা দ্বীপে (Charna Island) পর্যটকের ছদ্মবেশে সমুদ্রপথে বড় আকারের হামলার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে লস্কর-ই-তইবার জলজ জঙ্গিরা!
পর্যটকদের ভিড়ে মিশে ‘কমব্যাট সুইমিং’ ও স্কুবা ডাইভিং!
সাধারণ পর্যটকদের মতো সেজে চরনা দ্বীপে আস্তানা গেড়েছে লস্কর-ই-তইবার প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা। সেখানে তাদের দেওয়া হচ্ছে:
-
সমুদ্রের তলদেশে সাঁতার বা কমব্যাট সুইমিং (Combat Swimming)-এর বিশেষ পাঠ।
-
জলের গভীরে গিয়ে আক্রমণ চালানোর জন্য পেশাদার স্কুবা ডাইভিং (Scuba Diving) প্রশিক্ষণ।
-
জলের নীচে বিভিন্ন যুদ্ধকালীন অভিযানের গোপন কৌশল।
এই প্রশিক্ষণ শিবিরের নেপথ্যে রয়েছে লস্করের বিশেষ সামুদ্রিক শাখা ‘দাওয়া মেরিন উইং’ বা ‘সাদা-এ-হুররিয়ত’। এই প্রশিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে পাকিস্তানের মার্কাজি মুসলিম লিগের (PMML)। ২০০৮ সাল থেকেই লস্করের একটি ছোট উইং সক্রিয় ছিল, তবে এবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় বড় আকারের হামলা চালানোর সক্ষমতা তৈরি করতেই এই দ্বীপে জোরকদমে প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে বলে দাবি।
মাংলা ড্যাম থেকে ভারতীয় মিসাইল হামলার ইতিহাস
এর আগেও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মাংলা ড্যামে এবং একাধিক জঙ্গি লঞ্চপ্যাডে নির্মিত বিশেষ সুইমিং পুলে লস্করকে জলপথ অভিযানের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গিয়েছিল। তবে সেগুলির বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্রুজ মিসাইল ও সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় ছারখার হয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়াতেই করাচির এই জনবহুল পর্যটন দ্বীপকে বেছে নিয়েছে পাক জঙ্গিরা।
ভারতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে, জলপথে আসা সম্ভাব্য সমস্ত রকম হুমকির বিষয়ে তারা নজর রাখছে এবং উপকূল জুড়ে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
উপত্যকায় তল্লাশি: পাকিস্তানি মায়ের রহস্যময় চক্রান্ত?
অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরে লস্করের একটি সক্রিয় নিয়োগ চক্রের সন্ধান পাওয়ার পরই আসরে নেমেছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (CIK)। শ্রীনগর, বুদগাম, পুলওয়ামা এবং অনন্তনাগের বিজবেহারা ও মাত্তানের মোট ৬টি স্থানে মেগা তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে সিআইকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একাধিক আপত্তিকর নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বুদগামের ২২ বছর বয়সি এক স্নাতক ছাত্র মহম্মদ ইয়াসিন মিরের বাড়ি। মিরের মা তাবাসুম শাহিন—যিনি একজন পাকিস্তানি নাগরিক—গত বছরের ২৯ এপ্রিল আকস্মিকভাবেই পাকিস্তান চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তিনি ভিসা না পাওয়ায় ফিরতে পারেননি নাকি ইচ্ছে করেই থেকে গেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে পাকিস্তান থেকেও তিনি ছেলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই পাকিস্তানি যোগসূত্র ধরে উপত্যকাতেও লস্করের নতুন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে কোমর বেঁধে নেমেছে তদন্তকারীরা।