‘১৫ মিনিটে গ্রেফতারির ফুটানি ছাড়ুন, আগে নিজের দলের তোলাবাজদের ধরুন!’ শুভেন্দুকে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক চ্যালেঞ্জ

রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা হওয়ার পরপরই শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—শিল্পের কাজে তোলাবাজি বা চাঁদাবাজি করতে এলে ১৫ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে। শুভেন্দুর এই কড়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে কুণাল দাবি করেছেন, অন্য জায়গায় বড় বড় বিবৃতি না দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আগে নিজের দলের অভিযুক্ত তোলাবাজ বিধায়কদের গ্রেফতার করে দেখান!
‘নিজেদের ঘরের অভিযোগ আগে সামলান’
কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক তাদের নিজস্ব বিধায়কদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির মারাত্মক সব ঘটনা সামনে আসছে। কোথাও চানাচুর কারখানার মালিকের থেকে তোলা চাওয়ার অভিযোগ, তো কোথাও হুগলি কিংবা উত্তর ২৪ পরগনায় সিন্ডিকেটরাজের অভিযোগ উঠছে।
কুণাল ঘোষের সাফ কথা, “মুখ্যমন্ত্রীর নিজের দলের লোকজনেরাই এই সমস্ত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। নিজেদের ঘরের বিধায়কদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কী করে অন্যদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন? ক্ষমতা থাকলে আগে নিজের দলের অভিযুক্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে গ্রেফতার করে দেখান, তারপর অন্যদের নিয়ে কথা বলবেন।” কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীর ‘তোলাবাজি বিরোধী’ শূন্য সহনশীলতার অবস্থানকে পুরোপুরি দ্বিচারিতা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি ও সিন্ডিকেট বিতর্কের রাজনীতি
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিল্পপতিদের ভরসা দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে সিন্ডিকেটরাজ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। সাবেক তৃণমূল আমলের ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ পুরোপুরি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
কুণাল ঘোষ সেই দাবিরই পাল্টা হাওয়া বের করে দিয়ে দাবি করেছেন, সরকারে বদল হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি; বরং তোলাবাজির অভিযোগের তীর এখন বিজেপি বিধায়কদের দিকেই ঘুরেছে।
বিজেপির পাল্টা দাবি ও রাজনৈতিক উত্তাপ
কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক আক্রমণের পর সরকারি বা দলীয় সূত্রে কড়া জবাব এসেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই রাজ্যে আইন সবার জন্য সমান। দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যদি নির্দিষ্ট কোনো বিধায়কের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তথ্যপ্রমাণ থাকে, তবে অবশ্যই আইন নিজের পথে চলবে।
তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং তোলাবাজিমুক্ত রাজ্য গড়ে তোলার যে দাবি বিজেপি সরকার করছে, কুণাল ঘোষের এই আক্রমণের ফলে সেই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল। দীপাবলির মরসুমে রাজ্যের রাজনীতিতে এই নতুন ‘তোলাবাজি বিতর্ক’ যে বেশ কিছুদিন উত্তাপ বাড়াবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।