পেট্রলে ৩০% ছাড়াল ইথানল! ইন্ডিয়ান অয়েল থেকে শেল—পাম্পে তেল ভরানোর আগে সাবধান!

পেট্রলে ইথানল মেশানোর নির্দিষ্ট সরকারি সীমা ২০ শতাংশ (E-20)। কিন্তু আপনার গাড়ির জ্বালানিতে কি আসলেই ঠিক পরিমাণে ইথানল মেশানো হচ্ছে? কর্নাটক সরকারের এক সাম্প্রতিক গবেষণাগার পরীক্ষায় উঠে এল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য। ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম, ভারত পেট্রলিয়াম এমনকি শেলের মতো নামী তেল সংস্থাগুলির জ্বালানির নমুনায় নির্ধারিত ২০ শতাংশ সীমার চেয়ে অনেকটাই বেশি ইথানল মেশানোর অনিয়ম ধরা পড়েছে। কয়েকটি নমুনায় এই পরিমাণ একলাফে ৩০ শতাংশের গণ্ডিও ছাড়িয়ে গিয়েছে! জ্বালানিতে অনিয়ন্ত্রিত ইথানল মেশানোর ফলে গাড়ির মাইলেজ মারাত্মকভাবে কমা থেকে শুরু করে ইঞ্জিনের পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ গাড়ি ও বাইক চালকেরা।

৬৩টি নমুনা পরীক্ষা, ৭ জেলায় মিলল অনিয়মের অভিযোগ কর্নাটক সরকারের উদ্যোগ নিয়ে রাজ্যের সাতটি জেলা থেকে ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম, ভারত পেট্রলিয়াম, নায়ারা ও শেলের মতো বিশ্বমানের পেট্রল পাম্পের মোট ৬৩টি পেট্রলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রথমে নমুনাগুলি পরীক্ষা ও ইথানলের সঠিক অনুপাত জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নিজস্ব ল্যাবে পাঠানো হয়। তবে সংস্থাগুলির উত্তর অস্পষ্ট ও সন্দেহজনক হওয়ায় পরবর্তীতে নমুনাগুলি পাঠানো হয় জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি পর্ষদ (NABL) দ্বারা স্বীকৃত বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত ‘শ্রীরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এ। সেই নিরপেক্ষ ল্যাবের রিপোর্ট আসতেই ফাঁস হয়ে যায় অনিয়মের আসল চিত্র।

কোন নামী সংস্থার পেট্রলে কত ইথানল মিলল? কর্নাটক সরকারের প্রকাশিত সরকারি হিসাব অনুযায়ী:

  • ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL): একটি নমুনায় রেকর্ড ৩১.২ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিলেছে।

  • হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম (HPCL): একটি নমুনায় ইথানলের মাত্রা ধরা পড়েছে ৩০.৫ শতাংশ। অন্য একটি নমুনায় মিলেছে ২২.৪ শতাংশ।

  • ভারত পেট্রলিয়াম (BPCL): ‘স্পিড’ (Speed) পেট্রলের নমুনায় মিলল ২৬.৫ শতাংশ ইথানল। অন্য দুটি সাধারণ নমুনায় মিলল ২৪.২ ও ২২.৬ শতাংশ।

  • নায়ারা (Nayara Energy): জ্বালানির নমুনায় মিলল ২৬.১ শতাংশ ইথানল।

  • শেল (Shell): প্রিমিয়াম এই সংস্থার নমুনায় ইথানলের মাত্রা পাওয়া গিয়েছে ২৫.৫ শতাংশ।

গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব মন্ত্রী জ্বালানিতে এই ধরণের বেআইনি জালিয়াতির পর কেন্দ্রের কাছে একটি বিশেষ ‘ক্ষতিপূরণ তহবিল’ (Compensation Fund) গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন কর্নাটকের খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী রিজওয়ান আরশাদ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, নির্ধারিত সীমার বেশি ইথানল মেশানোর কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ও মাইলেজের যে অপপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারণ চালকদের ওপর পকেটের অতিরিক্ত যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তার পূর্ণ দায়ভার কেন্দ্র ও এই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকেই নিতে হবে। অবিলম্বে এর সঠিক তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির হার পুষিয়ে দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *