ক্ষতি গোস্বামী’ বলে অপদস্থ করা হয়েছিল বাবাকে! বুদ্ধদেবের জমি নীতি নিয়ে বিস্ফোরক ক্ষিতি-কন্যা

তথাগত বাম জমানার শিল্পায়ন এবং জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ডাকা জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৎকালীন সরকারের শিল্প নীতির সমালোচনা করার অপরাধে একদা বর্ষীয়ান নেতা ক্ষিতি গোস্বামীকে দলেরই কমরেডদের তীব্র হেনস্থা ও ‘ক্ষতি গোস্বামী’ বলে কটূক্তি শুনতে হয়েছিল। শুক্রবার এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন আরএসপি-র বর্ষীয়ান নেতা সুভাষ নস্কর। আর এই আবহেই, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ক্ষত এবং বাম আমলের সেই বিতর্কিত নীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা তথা বর্তমান তৃণমূল নেত্রী। যা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ক্ষিতি গোস্বামীকে ‘ক্ষতি গোস্বামী’ বলে অপদস্থ!

বাম আমলের শেষের দিকে শিল্পায়ন আর জমি নীতি নিয়ে যে অন্দরেই তুমুল মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, শুক্রবার সুভাষ নস্করের এই মন্তব্যে তা ফের জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। সেদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যিনি তৎকালীন নীতির বিরোধিতা করার সাহস দেখিয়েছিলেন, তাঁকে কীভাবে খোদ শরিক দলের ভেতর কোণঠাসা ও অপমানিত করা হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে বুদ্ধদেব জমানার জমি নীতি ও নন্দীগ্রামের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর আসরে নেমেছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও। তিনি সাফাই দিয়ে জানিয়েছিলেন, সেই শিল্প নীতি যেহেতু জ্যোতি বসুর আমলে গৃহীত হয়েছিল, তাই তার দায় সম্পূর্ণ জ্যোতি বসুরই, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেবল তা কার্যকর করেছিলেন মাত্র। বিমানের এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি দলের ভেতর থেকেই বুদ্ধবাবুকে একা ঠেলে দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা চলছে?

‘মানুষকে ভূমিহারা করে শিল্প গড়া ভুল ছিল’

এই পুরো বিতর্ক প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রয়াত মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা তথা বর্তমান তৃণমূল নেত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন বাম আমলের জমানাকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও অধিকার বিপন্ন করে, সাধারণ মানুষকে ভূমিহারা করে জোর করে যে শিল্পায়নের মডেল আনার চেষ্টা হয়েছিল, তা আদতে কোনো ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ বা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন ছিল না।

তাঁর মতে, সেদিনের সেই ভুল পদক্ষেপ এবং পুরোনো প্রযুক্তির কেমিক্যাল হাব গড়ার জেদের জন্যই নন্দীগ্রামের মতো মর্মান্তিক অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বাংলাকে। কুড়ি বছর বাদেও বাম জমানার সেই নীতি যে আদ্যোপান্ত ভ্রান্ত ছিল, তা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *