‘বাংলায় বিনিয়োগ করতে লাইন দিচ্ছে দেশ-বিদেশ!’ পটপরিবর্তনের পরেই বিরাট হুংকার শমীকের

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকারের জমানায় বাংলার মাটিতে শিল্পায়নের এক বিরাট ও সোনালী ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে বলে দাবি করলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী সুর শোনা গেল তাঁর গলায়।

নতুন শিল্পনীতি ও সিঙ্গুরের ভবিষ্যৎ

এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই নীতিতেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ঐতিহাসিক সিঙ্গুরে ফের মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে গাড়ি কারখানা। শুধু তাই নয়, অশোক লেল্যান্ডের মতো নামী সংস্থাও সেখানে গাড়ি উৎপাদন শুরু করতে পারে বলে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং লগ্নি টানতে বর্তমান প্রশাসন কী কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করছে, তাও তুলে ধরা হয়েছে।

ভৌগোলিক সুযোগ ও বিনিয়োগের জোয়ার

উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতে শুক্রবার সকালে কলকাতা থেকে বিমানযোগে বাগডোগরায় পৌঁছন শমীক ভট্টাচার্য। বিমানবন্দর থেকেই তিনি সোজা আলিপুরদুয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে পুঁজি ও শিল্পবান্ধব পরিবেশের তীব্র ঘাটতি ছিল, যার জেরে দেশ-বিদেশের বহু শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী এ রাজ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে গত ৪ মে-র পর থেকে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের হাত ধরেই আশার এক নতুন আলো দেখা দিয়েছে।

শমীকের মতে, ভৌগোলিক এবং সামাজিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। একদিকে এই রাজ্য উত্তর-পূর্ব ভারতের মূল ‘গেটওয়ে’ বা প্রবেশদ্বার, অন্যদিকে রয়েছে নদী, সুবিশাল সমুদ্রবন্দর এবং তিনটি আন্তর্জাতিক সীমানা। এই বহুমুখী সুবিধা এবং উপলব্ধ জমির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে রাজ্যে এখন বৃহৎ শিল্পায়নের এক বিরাট দুয়ার খুলে গেছে।

জিরো টলারেন্স নীতি ও বিরোধীদের সমালোচনা

রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই নতুন শিল্পনীতির সফল রূপায়ণ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্যই হল রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আনা এবং উন্নয়নকে কয়েকগুণ ত্বরান্বিত করা। ইতিমধ্যেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, প্রবাসী ভারতীয় এবং বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলি বাংলাকে তাদের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং অটোমোবাইল খাতের একাধিক প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

অতীতে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অযথা জটিলতা এবং সুনির্দিষ্ট নীতির অভাব যে পরিকাঠামোয় বড় ধাক্কা দিয়েছিল, সেকথা স্বীকার করে তিনি জানান, ক্ষুদ্র চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে এবং আইনি জট কাটিয়ে একটি কার্যকর শিল্পনীতি রূপায়ণে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি, শিল্পের পরিবেশ নষ্ট করতে কারখানার বাইরে যে কোনো ধরনের বলপূর্বক তোলাবাজি বা নৈরাজ্য রুখতে রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।

অন্যদিকে, এদিন রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শমীক ভট্টাচার্য। কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজপথে শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলগুলি এখন সংসদের অধিবেশন বারবার ব্যাহত করার যে কালচার তৈরি করছে, তা সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *