আধারের দিন কি ফুরিয়ে এল? সরকারি অনুদান পাওয়ার নিয়মে আসছে বড়সড় পরিবর্তন?

সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কি এবার আধার কার্ডের একক আধিপত্য কমতে চলেছে? উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় আধারের পরিবর্তে এবার ভোটার কার্ডের EPIC নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ঘিরেই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সরকারি প্রকল্পের অনুদান বিতরণের নিয়ম বদল নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
কী ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঠিক পরিচয় যাচাই করার ক্ষেত্রে আধার কার্ডই একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত নয়। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে দেশের প্রায় সর্বত্রই আধার কার্ড তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তাই উপভোক্তাদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার ছাড়াও অন্যান্য বিকল্প যাচাই পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করা দরকার। সেই সূত্র ধরেই তিনি ভোটার পরিচয়পত্রের EPIC নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্যকে যাচাইকরণের কাজে ব্যবহার করার জোরালো সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
কোন কোন প্রকল্পে পড়তে পারে প্রভাব?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই সম্ভাব্য প্রস্তাব যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তাবায়িত হয়, তবে পিএম-কিসান সম্মান নিধি, গ্রামীণ আবাস যোজনা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মতো বড় মাপের কর্মসূচিগুলিতে এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
-
পিএম-কিসান ও গ্রামীণ আবাস: এই প্রকল্পগুলিতে বর্তমানে যোগ্য কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বাড়ি তৈরির জন্য টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
-
পেনশন ও সামাজিক সুরক্ষা: ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের অধীনে দেশের বৃদ্ধ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা যে পেনশন পান, তার জন্যও আধার যাচাই জরুরি ছিল।
-
অন্যান্য ক্ষেত্র: গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ছাড়াও ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশনের মতো পশুপালন ও মৎস্য সংক্রান্ত বেশ কিছু কেন্দ্রীয় স্কিমেও এতদিন আধার অথেনটিকেশন বা আধার নম্বরের প্রমাণ আবশ্যিক রাখা হয়েছিল।
কবে থেকে বদলাচ্ছে নিয়ম?
তবে মন্ত্রীর এই প্রাথমিক বক্তব্যের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ঠিক কোন কোন প্রকল্পে এই বিকল্প পদ্ধতি চালু হবে, কবে থেকেই বা তা কার্যকর করা হবে কিংবা সরাসরি টাকা পাঠানোর বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে ঠিক কী প্রযুক্তিগত পদ্ধতি নেওয়া হবে—সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
ফলে এটা স্পষ্ট যে, এখনই রাতারাতি সরকারি প্রকল্প থেকে আধার কার্ড বাতিল হয়ে যাচ্ছে না বা আধারের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ হচ্ছে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। আপাতত শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি বিকল্প ব্যবস্থার সম্ভাবনার কথাই সামনে এনেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।