ধর্ষণ ও পকসো মামলার দ্রুত বিচারে বড় সিদ্ধান্ত! ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মেয়াদ

নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে ধর্ষণ ও পকসো (POCSO) মামলার দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টস স্কিম’-এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে মোট ৮৫০টি বিশেষ আদালত সচল রাখা হবে, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩,৭৮৮ কোটি টাকা।
দেশজুড়ে বাড়ল ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের পরিধি
২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই কেন্দ্রীয় অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প ইতিমধ্যেই বিচারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৭৭৯টি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট কাজ করছে, যার মধ্যে ৩৯৯টি একচেটিয়াভাবে পকসো আদালতের মর্যাদায় পরিচালিত হয়। শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিশেষ আদালতগুলোর মাধ্যমে চার লক্ষেরও বেশি বিচারাধীন মামলার সফল নিষ্পত্তি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই আদালতগুলির সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০টিতে উন্নীত করা হবে। মূলত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে জমে থাকা মামলার পেন্ডিংয়ের পরিসংখ্যান বা তীব্রতার ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন আদালতগুলি স্থাপন করা হবে।
আর্থিক বরাদ্দ ও পরিকাঠামো
প্রকল্পের মোট ৩,৭৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে কেন্দ্রের অংশ হিসেবে ২৩৫৩ কোটি টাকা আসবে মূলত ‘নির্ভয়া তহবিল’ (Nirbhaya Fund) থেকে। বাকি অর্থ সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি বহন করবে। প্রতিটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে থাকবেন একজন ডেডিকেটেড বা নির্দিষ্ট বিচারক, একজন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ছয়জন সহায়ক কর্মী। এর ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে দ্রুত রায়দান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।
ভিকটিমদের মানসিক সুরক্ষা ও শিশু-বান্ধব পরিবেশ
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মামলাগুলি সাধারণত বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকে, যার ফলে বিচারপ্রার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আদালতের দীর্ঘ চক্কর এবং সাক্ষ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সময় ভিকটিমদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে।
এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভিকটিমদের সাক্ষ্যদানের সুবিধার্থে বিশেষ ‘চাইল্ড-ফ্রেন্ডলি কোর্ট স্পেস’ এবং ‘ভালনারেবল উইটনেস ডিপোজিশন সেন্টার’ বা দুর্বল সাক্ষীদের জন্য নিরাপদ depositions কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর ফলে শিশুরা বা নারীরা আরও অনেক বেশি সুরক্ষিত ও ভয়হীন পরিবেশে নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারবেন।
অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা
মোদি সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে নারী ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া কেবল ন্যায়বিচারই নিশ্চিত করে না, বরং সমাজে অপরাধের প্রবণতা কমাতে এবং অপরাধীদের মনে ভীতি তৈরি করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেয়। অপরাধীরা যখন নিশ্চিত হন যে শাস্তির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই, তখন অপরাধের হারও স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। এই পাঁচ বছরের সম্প্রসারণের ফলে দেশের যে সমস্ত দুর্গম বা কম উন্নত জেলায় এখনও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই, সেখানেও বিশেষ আদালত পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।