ফ্রিজে থাকা আপনার প্রিয় ‘ওল্ড মঙ্ক’ কি আদৌ আসল রম নয়? FSSAI-এর চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপে মহারাষ্ট্রে তোলপাড়!

শীতের আমেজে আড্ডা কিংবা ক্লান্তি দূর করতে যাঁদের প্রথম পছন্দ বিখ্যাত রাম ব্র্যান্ড ‘ওল্ড মঙ্ক’ (Old Monk), তাঁদের জন্য রয়েছে এক বড় চমকপ্রদ খবর। গত মে-জুন মাস থেকে মহারাষ্ট্রে হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে গেছে এই জনপ্রিয় পানীয়টি। কিন্তু কেন এই বিপত্তি? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর সত্য— আপনি যাকে এতদিন ধরে ‘আসল রম’ বলে তৃপ্তিভরে পান করছিলেন, তা কি আদতে আদৌ রম নয়? দেশের ফুড রেগুলেটর এফএসএসএআই (FSSAI)-এর দাবি তেমনই কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিতর্কের জেরে সম্প্রতি বোম্বে হাই কোর্ট থেকে নিজেদের আইনি মামলাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে প্রস্তুতকারক কোম্পানি।

এফএসএসএআই-এর মূল আপত্তি কোথায়?
গোটা এই আইনি লড়াই ও বিতর্কের সূত্রপাত মূলত মদের বোতলের গায়ে সেঁটে থাকা লেবেলকে কেন্দ্র করে। ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (FSSAI)-এর সাফ দাবি, এই ড্রিংকটিতে বাইরে থেকে কৃত্রিম উপায়ে রমের ফ্লেভার বা গন্ধ মেশানো হয়েছে। কিন্তু বোতলের গায়ে কোথাও স্পষ্ট করে লেখা নেই যে এটি একটি ‘ফ্লেভারড লিকার’ নাকি নিছক ‘রম-ফ্লেভর্ড স্পিরিট’। রেগুলেটরের মতে, এই তথ্য গোপন করে সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

আদালতে শুনানির সময় FSSAI-এর আইনজীবী স্পষ্ট ভাষায় জানান, নিউট্রাল স্পিরিটের সঙ্গে বাইরে থেকে রমের ফ্লেভার বা এসেন্স মিশিয়ে তৈরি করা কোনো পানীয়কে কখনোই আইনগতভাবে ‘রম’ হিসেবে বিক্রি করা যায় না। পাশাপাশি, বোতলের গায়ে লেখা ‘৭ বছর পুরনো ব্লেন্ডেড’ (7 years old blended) দাবি নিয়েও তীব্র আপত্তি তোলে কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, এই ফ্লেভারযুক্ত লিকারটিকে কোনো বিশেষ কাঠের পিপে বা ব্যারেলে রেখে বছরের পর বছর পুরোনোই করা হয়নি! সংস্থার শর্ত ছিল, যদি লেবেলে ‘রম’ শব্দের বদলে ‘রমের মতো’ (rum-like) লেখা হয়, তবেই এর বিক্রির অনুমতি দেওয়া সম্ভব।

হাই কোর্টে আইনি লড়াই ও কোম্পানির পিঠটান
এই কঠোর নির্দেশের বিরুদ্ধে গত আগস্ট মাসেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার প্রাইভেট লিমিটেড’। কোম্পানির আইনজীবীদের দাবি ছিল, তারা আইন মেনে খাঁটি কৃষিজাত স্পিরিট দিয়েই এই পানীয় তৈরি করছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আদালত স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে আদালতের পরামর্শে কোম্পানি নতুন লেবেল জমা দেয়, যেখানে ‘এডেড ফ্লেভার’ কথাটি স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় এবং ‘৭ বছর পুরোনো’ ট্যাগটি সরিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি খাদ্য সুরক্ষা রেগুলেটর। শেষ পর্যন্ত গত ৫ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে থেকে নিজেদের মামলা তুলে নেয় কোম্পানি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফুড সেফটি অ্যাক্ট ২০০৬-এর নিয়মানুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই নতুন লেবেল জমা দেওয়া হবে।

ভয়াবহ ধস স্পিরিট ইন্ডাস্ট্রিতে, সরকারের লোকসান ৩৫০ কোটি!
এফএসএসএআই-এর এই ঝটিকা অভিযান শুধু ওল্ড মঙ্কের ভাগ্যেই কালো মেঘ নামায়নি, স্পিরিট ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় ব্র্যান্ডগুলির ওপরও খাঁড়া নেমে এসেছে। যেসব কোম্পানি সাধারণ স্পিরিটে কৃত্রিম ফ্লেভার মিশিয়ে বাজারজাত করছে, তাদের ওপর কড়া নজরদারি চলছে।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার জেরে এক মাসেরও কম সময়ে কেবল মহারাষ্ট্রের আবক্ষ ও আউটার রাজ্যগুলির এক্সাইজ ডিপার্টমেন্ট বা আবकारी দফতরকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। দেশজুড়ে মদের বাজারে এই শুল্ক ও লেবেল বিতর্ক আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *