নতুন বছরে বেকারদের হাতে মাসে ৩০০০ টাকা! মুখ্যমন্ত্রীর মেগা ‘ভরসা’ প্রকল্পের আবেদন কবে থেকে? জেনে নিন খুঁটিনাটি

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন বছরের শুরুতেই আসতে চলেছে এক বিরাট সুখবর। তাঁদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও সহায়তা জোগাতে ‘ভরসা’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই এই ভরসা কর্মসূচি পুরোদমে চালু করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৩ নভেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই ‘ভরসা’ প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও বেকার তরুণ-তরুণীদের মুখে হাসি ফুটতে চলেছে।
কারা কত টাকা পাবেন?
রাজ্য সরকারের এই নয়া উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক সাহায্য বা বেকার ভাতা প্রদান করা হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ:
স্নাতক (Graduation) যোগ্যতাসম্পন্ন বেকার: যে সমস্ত যুবক-যুবতী ন্যূনতম স্নাতক পাশ করেছেন, তাঁরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন।
মাধ্যমিক পাশ (Secondary Passed) বেকার: যাঁরা ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ করেছেন কিন্তু স্নাতক স্তর পূর্ণ করেননি, এমন যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে পাবেন।
আবেদনের নিয়ম ও যোগ্যতার শর্তাবলি
এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি শর্ত পূরণ করতে হবে:
বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
পারিবারিক আয়: পরিবারের মোট বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লক্ষ টাকার কম।
অন্যান্য সুবিধা: অন্য কোনো সরকারি সামাজিক ভাতার সুবিধা পাওয়া সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ এতে বহাল থাকবে।
আবেদনের জন্য প্রস্তুত রাখুন এই ৯টি নথি
নতুন বছরের শুরু থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আবেদন শুরুর আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় নথির তালিকা:
১. আধার কার্ড
২. ভোটার কার্ড
৩. জন্ম সনদ বা জন্মের শংসাপত্র
৪. মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ হিসেবে)
৫. শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও শংসাপত্র
৬. অরিজিনাল অথবা প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট
৭. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (পাসবুকের প্রথম পাতা/ক্যান্সেলড চেক)
৮. সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি
৯. ইনকাম সার্টিফিকেট (পারিবারিক বার্ষিক আয়ের প্রমাণপত্র)
উল্লেখ্য, উপরোক্ত নথির তালিকাটি প্রাথমিক ও সম্ভাব্য। আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে দেখে নথি নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।