“ঘুম থেকে উঠে দেখি স্ত্রী মৃত! আতঙ্কিত হয়ে নিজেই করাত দিয়ে দেহ টুকরো করি”— মার্কিন মুলুকে দাঁড়িয়ে নরেশের চাঞ্চল্যকর দাবি

মার্কিন মুলুকে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এল। ২৮ বছর বয়সি স্ত্রী মমতা কাফলে ভাটকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্বামী নরেশ ভাট আদালতে দাঁড়িয়ে এমন এক আজব ও বিভৎস দাবি করেছেন, যা শুনে হতবাক খোদ বিচারক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা। স্ত্রীর খুনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করলেও, নরেশ আদালতে এক নিঃশ্বাসে স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি নিজেই করাত দিয়ে তাঁর স্ত্রীর দেহ টুকরো টুকরো করে কেটেছিলেন!

২০২৪ সালের জুলাই মাসের এই রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় নরেশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মামলা চলছে। দীর্ঘ দু’বছর ধরে তল্লাশি চালিয়েও মমতার কোনো মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেনি মার্কিন পুলিশ। বিচার প্রক্রিয়ার মাঝেই অভিযুক্ত নরেশ আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী নাকি বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।

“আতঙ্কে দেহ টুকরো করে ডাস্টবিনে ফেলেছিলাম”
আদালতে দেওয়া নরেশের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তিনি দেখেন খাটের পাশে বমির মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মমতা। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই চরম আতঙ্ক এবং মানসিক ঘোরের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে দেহটি গায়েব করে দেবেন।

এরপর ঘরের বাথরুমে ঢুকে করাত দিয়ে স্ত্রীর দেহ টুকরো টুকরো করেন তিনি। সেই খণ্ডিত অংশগুলি একাধিক জঞ্জালের ব্যাগে ভরে স্থানীয় বিভিন্ন ডাস্টবিনে ফেলে আসেন, যাতে কখনোই সেই দেহ বা তার কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া না যায়।

বাঁচার নতুন ফন্দি? আইনি মহলে বাড়ছে সংশয়
আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কঠোর সাজা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে বাঁচার জন্যই এই ধরনের মনগড়া স্বীকারোক্তির পথ বেছে নিয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী। খুন লুকানোর এমন ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা ও নৃশংসতার বিবরণ সামনে আসায় গোটা মার্কিন মুলুক এবং ভারতীয় প্রবাসী মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *