এক ক্লিকেই থমকে গেল জাপানের অর্ধেকের বেশি ব্যাংক! এটিএম-অনলাইন পরিষেবা সম্পূর্ণ অচল, আতঙ্কে কোটি কোটি গ্রাহক

জাপানের ব্যাংকিং পরিকাঠামোয় এক নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের কারণে অচল হয়ে পড়েছে দেশের একশটিরও বেশি ক্রেডিট ইউনিয়নের পরিষেবা। এটিএম থেকে টাকা তোলা, জমা দেওয়া কিংবা অনলাইন ফান্ড ট্রান্সফার— কোনো কাজই করতে পারছেন না কোটি কোটি গ্রাহক। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাপানের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ (ভারতীয় সময় সকাল ১০টা) আচমকাই এই প্রযুক্তিগত বিপর্যয় নেমে আসে। মূলত মধ্য ও পশ্চিম জাপানের ১২৮টি ক্রেডিট ইউনিয়ন এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

জাপানি সম্প্রচারমাধ্যম টিভি আসাহি (TV Asahi) এবং সংবাদ সংস্থা কিয়োডো নিউজ (Kyodo News)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩,৪৩০টি ব্যাংক শাখা ও এটিএম বুথ এই অচলাবস্থার শিকার হয়েছে।

কী প্রভাব পড়েছে ব্যাংক পরিষেবায়?
ব্যাংকিং চলাকালীন সময়েই হঠাৎ সিস্টেম ডাউন হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ থমকে যায়। যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের নিম্নলিখিত পরিষেবাগুলো বন্ধ রয়েছে:

এটিএম থেকে নগদ অর্থ তোলা ও জমা দেওয়া।

ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা।

অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক এবং ব্যাংক ট্রান্সফার।

ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ম্যানুয়াল লেনদেন।

ওসাকা সিটি শিনকিন ব্যাংক (Osaka City Shinkin Bank), সেতো শিনকিন ব্যাংক এবং ওকাজাকি শিনকিন ব্যাংকের মতো বড় বড় আঞ্চলিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এছাড়া হিরোশিমা সহ পশ্চিম জাপানের একাধিক অঞ্চলের ক্রেডিট ইউনিয়নগুলিতে পরিষেবা পুরোপুরি স্তব্ধ।

কীভাবে হলো এই মহা-বিপর্যয়? নেপথ্যে কি সাইবার হামলা?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘শিনকিন জয়েন্ট সেন্টার’ (Shinkin Joint Center)-এর শেয়ার্ড ব্যাংকিং সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার ফলেই এই সার্বিক বিপর্যয়। এই সেন্টারটি জাপানের বিভিন্ন ক্রেডিট ইউনিয়নগুলির লেনদেন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান একসাথে অচল হয়ে পড়েছে।

জাপানি সংবাদমাধ্যম এমবিএস (MBS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নেটওয়ার্কের কোনো যোগাযোগ সরঞ্জামে (Communication Equipment) ত্রুটির কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

তবে এই ঘটনার পেছনে কোনো সাইবার হামলার (Cyberattack) হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দিয়েছে। কিয়োডো নিউজ সূত্রে জানা গেছে, এই বিপর্যয় কোনো সাইবার আক্রমণের কারণে ঘটেনি। শিনকিন অ্যাসোসিয়েশনও আলাদাভাবে জানিয়েছে যে সাইবার হামলার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

কতজন গ্রাহক ও ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত?
জাপানে মোট ২৩৬টি ক্রেডিট ইউনিয়নের মধ্যে ১২৮টিই এই ব্যাংকিং ব্যর্থতার কবলে পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকদের সঞ্চয় ও ঋণের পরিষেবা দিয়ে থাকে।

যদিও ঠিক কত লক্ষ বা কোটি গ্রাহক এই ঘটনার ফলে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পূর্ব জাপানের ক্রেডিট ইউনিয়নগুলি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে।

কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে পরিষেবা?
কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। কারিগরি দল দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ওসাকা সিটি শিনকিন ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের অত্যন্ত জরুরি লেনদেনের জন্য বিকল্প কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এক একক প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যেভাবে শতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান একসাথে স্তব্ধ হয়ে গেল, তা জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং পরিকাঠামো ও সুরক্ষার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *