“৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিলবে বকেয়া টাকা!” নবান্ন থেকে সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি জানান, সরকারি কর্মচারীদের বাকি বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য নির্দিষ্ট ডেডলাইন ঠিক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত এই অর্থ মেটানো হবে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে এই ঘোষণায় কর্মচারীদের একটি বড় অংশে স্বস্তির হাওয়া বইছে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন হলেও জারি অর্থ প্রদান ডিএ মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টের অধীনে বিচারাধীন রয়েছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশিকা মেনে পর্যায়ক্রমে বকেয়া ডিএ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও সমস্ত ধারার কর্মীরা এখনও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় বিতর্ক একেবারে থামেনি।

১২ হাজার কোটির মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ দ্রুততার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পূর্বতন সরকার এবং বর্তমান সরকারের যৌথ উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ৮ হাজার কোটি টাকা কর্মচারীদের মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৩০ নভেম্বরের মধ্যে বাকি ৪,০০০ কোটি টাকা

অবশিষ্ট ৪ হাজার কোটি টাকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কাজের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য তহবিল থেকে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে এই বিশাল অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতিতে আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা।

“সবাইকে ২০% ডিএ দেওয়া হয়েছে”ডিএ বণ্টন নিয়ে উঠা প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার আইন মেনে সবাইকেই ২০% ডিএ প্রদান করেছে। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ ছিল সরাসরি যারা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ কর্মী, তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া মেটাতে হবে। সরকার সেই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছে।

গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী?অন্যদিকে, গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) বা অনুদানভুক্ত কর্মীরা এখনও বকেয়া ডিএ-র কোনো অংশ পাননি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এই নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটি এই বিষয়ে যা সুপারিশ বা রূপরেখা জমা দেবে, রাজ্য সরকার সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। আগের সরকার কী নির্দেশ রেখে গিয়েছে তা বিবেচ্য নয়, বর্তমান সরকারের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত।

কর্মচারী সংগঠনগুলির তুমুল বিক্ষোভ ও মালহোত্রা কমিটির গড়িমসি গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের এই সিদ্ধান্ত থেকে বাদ রাখা বা বঞ্চনার অভিযোগে ফুঁসছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন। সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার প্রধান মামলাকারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ’-এর পাশাপাশি ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-সহ একাধিক নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছে।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অভিযোগ করেছেন, সরকার বারবার বল ঠেলে দিচ্ছে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কোর্টে। তাঁর দাবি, কমিটি একাধিকবার রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেও, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত ভুক্তভোগী কর্মচারী বা তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। মনিটরিং কমিটির এই ধরনের গড়িমসি ও ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও শিক্ষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *