“সুগার ৮৪, প্রেসার পুরো নরমোল!” দুর্গাপুরের পুজো মণ্ডপে নিজের গোপন হেলথ রিপোর্ট ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

উৎসবের মরসুমে একদিকে যেমন জোরকদমে চলছে জনসংযোগ, তেমনই অন্যদিকে নিজের ফিটনেস ও স্বাস্থ্যের ‘ফিট’ রিপোর্ট সরাসরি জনসাধারণের দরবারে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের বি-জোন নিউটন এলাকায় একটি হাই-প্রোফাইল কালীপুজোর উদ্বোধনে যোগ দিয়ে নিজের ব্লাড প্রেসার ও সুগার পরীক্ষা করান মুখ্যমন্ত্রী।
পরীক্ষা শেষে মঞ্চে দাঁড়িয়েই উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি সানন্দে জানান, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা এবং রক্তচাপ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কোনো ধরনের ওষুধ খাওয়ারই প্রয়োজন নেই।
মণ্ডপে রাজনৈতিক সৌজন্য ও মেগা হেলথ ক্যাম্প:
বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর, রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ দুর্গাপুরের নিউটন এভিনিউয়ের কালীপুজো প্রাঙ্গণে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুরের একটি নামী বেসরকারি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্যোগে পুজো প্রাঙ্গণেই এক বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।
এদিনের পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আসানসোল রামকৃষ্ণ আশ্রমের সম্পাদক মহারাজ। অন্যদিকে, মণ্ডপ সংলগ্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
মঞ্চে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভিজ্ঞতা ও হাসিমুখের বার্তা:
স্বাস্থ্য শিবির পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কৌতূহলবশত রক্তচাপ পরীক্ষা করান। পরে উদ্বোধনী মঞ্চে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বেশ হালকা মেজাজেই নিজের শারীরিক অবস্থার বিবরণ দেন তিনি।
মজা করে তিনি বলেন, “হেলথ ক্যাম্পের উদ্বোধন করলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাই ভাবলাম আমাকেও তো হেলথ ক্যাম্পে কিছু একটা করতেই হয়! তবে সুগার পরীক্ষার জন্য সূঁচ ফোটাতে হতো। আমি বললাম ওটা আমার লাগবে না, কারণ সকালে খালি পেটে আমার সুগার ৮৪ থাকে। ফলে খাওয়াদাওয়ার পর আর সুগার মেপে দেখার প্রয়োজন পড়ে না।”
নিজের ব্লাড প্রেসারের বিবরণ দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি প্রেসার মাপালাম। এমনি স্বাভাবিক সময়ে সকালে আমার প্রেসার থাকে ১২০/৭০। এখন মেপে দেখলাম ১৩০/৭০ এসেছে। সারাদিনের এত ধকলের পর এইটুকু পার্থক্য হতেই পারে। উপস্থিত চিকিৎসকরাও দেখে বললেন, ওই ১০ এদিক-ওদিক হওয়া নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, এর জন্য কোনো ওষুধও খেতে হবে না।”
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে এখন একাধারে রাজ্য পরিচালনা এবং অন্যদিকে বিপুল জনাকাঙ্ক্ষা পূরণের গুরুভার। প্রতিনিয়ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সফর, প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক এবং জনসভার চাপ সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। এই ব্যস্ততম পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরের হেলথ ক্যাম্প থেকে দেওয়া তাঁর এই স্বস্তিদায়ক ‘ফিটনেস রিপোর্ট’ দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি বিরোধীদেরও স্পষ্ট বার্তা দিল— রাজ্য পরিচালনার যেকোনো শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলাতে তিনি ১০০% প্রস্তুত!