PoK-তে বিক্ষোভকারীদের উপরে রকেট হামলা, ভয়ঙ্কর গুলি বৃষ্টি, চার শিশু-সহ নিহত ১৮

সস্তায় খাদ্যসামগ্রী এবং উন্নত মানের শিক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে গর্জে উঠছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)। তবে সেই আন্দোলন দমন করতে এবার নজিরবিহীন পৈশাচিকতার আশ্রয় নিল পাকিস্তান প্রশাসন। PoK-র রাওয়ালকোটে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ভারী RPG-7 রকেট ছোড়া এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠল শেহবাজ শরিফ সরকার ও পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোরের এই হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

বাস টার্মিনালে প্রার্থনার পরপরই হামলা

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে রাওয়ালকোট বাস টার্মিনালের কাছে জড়ো হয়েছিলেন শত শত সাধারণ মানুষ। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JAAC) ব্যানারে গত জুন মাস থেকেই এই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তাঁরা।

এদিন ভোরে প্রার্থনা শেষ করে বিক্ষোভকারীরা কাছেই একটি চত্বরে জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় আচমকা তাঁদের লক্ষ্য করে একটি ভয়াবহ RPG-7 রকেট ছোড়া হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটতেই চারিদিকে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সাধারণ মানুষ হুড়োহুড়ি শুরু করলে তাঁদের ওপর চড়াও হয় পাক বাহিনী।

ড্রোন হামলা ও ঘরের ভেতর আগুন দেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, রকেট বিস্ফোরণের পরপরই পাকিস্তান রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কোর এবং পুলিশের জওয়ানরা সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। গুলির আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ২০ থেকে ২৫ জন। রক্তে ভেসে যায় পুরো চত্বর।

স্থানীয়দের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, সেনা কেবল রাস্তায় গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি; সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং একাধিক এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে ৪ শিশুসহ ১৮ জনকে মৃত ঘোষণা

ঘটনার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ৪টি শিশুসহ মোট ১৮ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি আহতদের চিকিৎসা চলছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

“আসিম মুনিরের নির্দেশে গণহত্যা”, সরব JAAC

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের স্থানীয় গণমাধ্যমে রকেটের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়ার চেষ্টা করেছেন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির শীর্ষ নেতা উমর নাজ়ির। রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) আশু হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, “পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। তবে এই বর্বরোচিত হামলার পরও আমরা কোনো সমঝোতা করব না, আসিম মুনিরকে এই গণহত্যার জবাবদিহি করতেই হবে।”

ব্ল্যাকআউট ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ

ঘটনার পর থেকেই রাওয়ালকোটজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি গোপন রাখতে ও আন্দোলন দমাতে রাওয়ালকোট ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। কাজ করছে না টেলিফোন নেটওয়ার্কও। এমনকি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুরো অঞ্চলকে আঁধারে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে বলে খবর মিলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *