ট্রেনে কামরায় যখন-তখন ঘুমানো যাবে না? অসুস্থ যাত্রীদের সুবিধা ও রেলের নিয়ম নিয়ে বড় রায় হাইকোর্টের!

দীর্ঘ দূরত্বের সফরের জন্য অধিকাংশ সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ ভারতীয় রেল (Indian Railways)। পকেটসাশ্রয়ী খরচে ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায় সহযাত্রীদের সাথে গল্প করে, বাইরের দৃশ্য উপভোগ করে কিংবা ঘুমিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় গন্তব্যে। তবে স্লিপার বা এসি কোচে সিট রিজার্ভ করা থাকলেও আপনি ঠিক কতটা সময় বার্থে ঘুমাতে পারবেন, তা নিয়ে সম্প্রতি এক বড় প্রশাসনিক ও আইনি আলোচনা সামনে এসেছে। কোনো অসুস্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যাত্রী কি নির্ধারিত সময়ের পরেও বার্থে শুয়ে থাকতে পারেন? এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার নেপথ্য ঘটনা
এক নিয়মিত ট্রেন যাত্রী তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে সফর করার সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সফর চলাকালীন সকাল ৬টার পর তাঁর স্ত্রীকে বার্থে শুয়ে থাকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় রেলের বার্থ ব্যবহারের নির্দিষ্ট ম্যানুয়াল ও নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। চেন্নাই আদালতের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতি সুশ্রু অরবিন্দ ধর্মাধিকারী ও বিচারপতি জি আরুল মুরুগানের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

মামলাকারীর মূল যুক্তি ছিল, অসুস্থ যাত্রী বা গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে রেলের বিশেষ ছাড়ের বিধান থাকলেও সহযাত্রীদের সম্মতি না থাকলে ভ্রমণকালে নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই এই নিয়ম পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

রেলের নিয়মেই সিলমোহর দিল হাইকোর্ট
মামলার সমস্ত যুক্তি খতিয়ে দেখার পর ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেয় এবং ভারতীয় রেলের বিদ্যমান সার্কুলারটিকেই বহাল রাখে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:

নির্দিষ্ট সময়সীমা: সাধারণ নিয়মে সংরক্ষিত কোচে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়কেই বার্থে ঘুমানোর অধিকার বা নির্ধারিত সময় হিসেবে গণ্য করা হবে।

সবার সুবিধার অগ্রাধিকার: সকল সাধারণ যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি পৃথক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এই সার্বিক নিয়ম বাতিল করা সম্ভব নয়।

বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিলতা: আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য এই নিয়মে ছাড় বা শিথিলতার সুযোগ রয়েছে। সফরের সময় এমন কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রী বা তাঁর পরিবার ট্রেনের টিটিই (TTE), আরপিএফ (RPF) কিংবা পরবর্তী স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *