আমেরিকার মুখে চরম আল্টিমেটাম! ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বদলে গেল ইরানের মেগা যুদ্ধ চাল

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাত এবার সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার প্রত্যক্ষ হুমকি দিয়ে চলেছেন, ঠিক সেই সময়ই দোহার মধ্যস্থতায় কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের দরবারে সাতটি কঠোর শর্তের প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। বিশ্বস্ত সূত্র ও ইরানের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের দেওয়া এই সাতটি বাধ্যতামূলক শর্ত না মেনে নিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও রকমের কূটনৈতিক বা শান্তিসংক্রান্ত আলোচনায় বসবে না তারা। ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই প্রস্তাব নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে আমেরিকা, যদিও এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আপাতত মুখ খুলতে নারাজ উভয় দেশের কূটনীতিবিদেরা।

ইরানের উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা আধিকারিক মোহসেন রেজাই ওয়াশিংটনকে চরম সতর্কবার্তা দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা যদি তেহরানের এই সাত দফা দাবি মেনে না নেয়, তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের পাশাপাশি কোনো প্রকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও যে সম্ভব নয়, তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এই সাতটি শর্তের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরান সরকার, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রানুসারে তেহরানের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সব ধরনের সামরিক আক্রমণ চিরতরে বন্ধ করা, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দরগুলি থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, তেহরানের বিরুদ্ধে চাপানো সমস্ত আন্তর্জাতিক ও মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ফেরত দেওয়া, মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হওয়া যুদ্ধের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং ইরানের ভূখণ্ডে ভবিষ্যতের সমস্ত মার্কিন হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আইনি প্রতিশ্রুতি দেওয়া।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনও তাদের নিজস্ব কঠোর অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। আমেরিকার স্পষ্ট পালটা দাবি, যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার পূর্বশর্ত হিসেবে শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে টেবিলে কথা বলতে হবে। এই টানাপোড়েনের মাঝেই আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে যে মার্কিন নির্বাচনের পর বা প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে দুই দেশের সংঘাত আরও বেশি মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। ট্রাম্প নিজে নির্বাচন বা তৎপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি প্রসঙ্গে স্পষ্ট কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি দেননি। অপরপক্ষে, যদি যুদ্ধ ফের পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে ও আমেরিকার ওপর আরও বড় আকারে পালটা সামরিক প্রত্যাঘাত হানতে ইরানও তাদের সেনাবহর ও মিসাইল ভান্ডার প্রস্তুত রেখেছে। উল্লেখ্য, এর আগে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাটি ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক মিসাইল হামলা চালিয় সংঘাতকে বহুদূর টেনে নিয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *