রিলস দেখে সস্তায় সোনা কেনার হিড়িক! বারুইপুরের জুয়েলার্সে পা দিয়েই মাথায় হাত খদ্দেরের

সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস আর বিজ্ঞাপনের চকমকে দুনিয়ায় আজকাল কত কিছুই না চোখ ধাঁধিয়ে দেয়! তেমনই এক পপুলার রিলস দেখে সস্তায় সোনা কেনার অফার পেতেই হু হু করে দোকানে ভিড় জমিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে সস্তার সোনার লোভনীয় রিলস দেখে ক্রেতারাও যেমন সোনা কিনছিলেন, তেমনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল জুয়েলার্স দোকানের ডিজিটাল ভিউ। আর সেই ভিউ দেখে কেনাকাটা করতে আরও মানুষের ঢল নামছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। কিন্তু সেই চকমকে বিজ্ঞাপনের নেপথ্যেই লুকিয়ে ছিল বিরাট এক প্রতারণার জাল। সোনা কেনাবেচায় সোজা জালিয়াতির অভিযোগে এখন চরম শোরগোল ছড়িয়েছে বারুইপুরের ‘ব্যাঙ্গালোর জুয়েলার্স’-কে কেন্দ্র করে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ক্রেতা সোজা বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির খানাকুলের এক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্গালোর জুয়েলার্সের রিলস ও বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয়ে বারুইপুরে এসে সোনার গয়না কেনেন। সোনা কেনার পর দোকান থেকে যে বিল দেওয়া হয়েছিল, তাতে সোনার মোট ওজন উল্লেখ ছিল ২.৫৫০ গ্রাম। কিন্তু কেনা গয়নাটি হাতে নিয়ে এবং তার গুণমান দেখে মনে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে ওই ব্যক্তির। পরিবারের লোকজনের মধ্যেও গয়নার গুণমান নিয়ে অশান্তি শুরু হয়ে যায়। সন্দেহ দূর করতে বাধ্য হয়ে ওই ক্রেতা গয়নাটি বাইরে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে চরম সত্য। অভিযোগ, সোনা গলানোর পর দেখা যায় ২.৫৫০ গ্রামের জায়গায় মাত্র ১.১৪০ গ্রাম সোনা অবশিষ্ট রয়েছে! অর্থাৎ ওজনেই প্রায় অর্ধেকের বেশি গরমিল। এখানেই শেষ নয়, বিলে আলাদা করে হলমার্ক চার্জ বাবদ টাকা নেওয়া হলেও কেনা সোনার গয়নায় কোনও আসল হলমার্কের অফিশিয়াল স্ট্যাম্প ছিল না।

এখানেই শেষ নয়, ওই সোনা ২২ ক্যারেটের খাঁটি সোনা বলে বিক্রি করা হলেও পরীক্ষার পর দেখা যায় তা ২২ ক্যারেটের ধারেকাছেও আসে না। প্রতারিত বোধ করায় আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ভুক্তভোগী ক্রেতা সরাসরি বারুইপুর থানায় গিয়ে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার রাতে বারুইপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা তড়িঘড়ি সেই ব্যাঙ্গালোর জুয়েলার্সে গিয়ে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেন। তবে এই গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে জুয়েলার্সের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরা বা সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতারিত ক্রেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই ওরা ফেসবুকে এভাবে সস্তার রিলস বানিয়ে গয়নার বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে। আর এর আড়ালে সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। গয়না কেনার পরই আমার বাড়ির লোকের সন্দেহ হয়, যার জন্য বাড়িতে চরম অশান্তি শুরু হয়েছিল। শেষে সন্দেহ মেটাতে বাইরে সোনা গলিয়ে পরীক্ষা করতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!” বর্তমানে বারুইপুর থানার পুলিশ দোকানের কেনাবেচার নথিপত্র এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই স্পষ্ট হবে সোনা বেচাকেনার নামে এই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের আড়ালে ঠিক কতটা বড় প্রতারণার চক্রান্ত চলছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *