“গণতন্ত্র বাঁচানোর নামে আসলে কুর্সি দখলের লড়াই!” শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটকে ধুয়ে দিলেন সর্বানন্দ সোনওয়াল

গণতন্ত্র রক্ষার জোরালো স্লোগান তুললেও আদতে ক্ষমতা দখলের রাজনীতির জন্যই কংগ্রেস ও বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চক্রান্ত চালাচ্ছে—শিলিগুড়ির মাটিতে দাঁড়িয়ে এমনটাই তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল।

বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা এবং শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি অরুণ মণ্ডল।

বিরোধীদের আসল লক্ষ্য ক্ষমতা দখল: সোনওয়াল

বৈঠকে বিরোধীদের তীব্র নিশানা করে সর্বানন্দ সোনওয়াল দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিপন্ন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করাই এখন কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীদের মূল এজেন্ডা। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে আদতে যে কোনো উপায়ে মসনদ দখল করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। তবে দেশের দূরদর্শী মানুষ যে তাদের এই হীন রাজনীতি ধরে ফেলেছেন, তা সাম্প্রতিক একাধিক নির্বাচনে বিরোধীদের ভরাডুবি থেকেই স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে সোনওয়াল আরও অভিযোগ করেন যে, অতীতে কংগ্রেস সরকার অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতকে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ১৯৮৩ সালের বিতর্কিত আইএমডিটি (IMDT) আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট ওই আইনটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছিল। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকেও একহাত নেন তিনি।

মোদীর ‘অমৃত কাল’ ও সেনার সম্মান প্রসঙ্গে

কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও কংগ্রেস কেবল ‘গরিবি হটাও’ শ্লোগানের রাজনীতি করেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কাজের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। আবাসন, শৌচাগার, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পের সুফল আজ প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে ইভিএম, নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো দেশের পবিত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দোষ চাপানোর মানসিকতারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। রাহুল গান্ধি সহ বিরোধীদের একাংশ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে প্রায়শই সেনার বীরত্ব ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ করে সোনওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানান, জওয়ানদের আত্মত্যাগ নিয়ে রাজনীতি করে দেশবিরোধী চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না।

সবশেষে, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ‘অমৃত কাল ভিশন’-এর ডাক দিয়ে তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার এই মহাযজ্ঞে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *