সিঙ্গুরে ফের ইঞ্জিনের গর্জনে মুখরিত হবে মাঠ? টাটা বিদায়ের কুড়ি বছর পর অশোক লেল্যান্ডকে নিয়ে কোন মেগা বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী?

রাজ্য রাজনীতির দীর্ঘদিনের এক বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর অধ্যায়ে কি তবে এবার ইতি টানার পালা? ২০০৬ সালের সেই ঐতিহাসিক টাটা-বিক্ষোভ এবং শিল্প শূন্যতার দীর্ঘ দীর্ঘ বছর পর এবার সিঙ্গুরে ফের নতুন করে শিল্পায়নের জোয়ার আনার উদ্যোগ শুরু করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতির ঘোষণা করতে গিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্যে সিলমোহর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারী বাণিজ্যিক গাড়ি প্রস্তুতকারী দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংস্থা ‘অশোক লেল্যান্ড’-এর (Ashok Leyland) সঙ্গে ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরে কারখানা গড়া নিয়ে প্রাথমিক স্তরের আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, শুধু সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষর করে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসাই সরকারের লক্ষ্য নয়; বরং বাস্তবে মাটি কামড়ে কলকারখানা গড়ে তোলা এবং বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নিশ্চিত কর্মসংস্থান তৈরি করাই বর্তমান প্রশাসনের একমাত্র মন্ত্র।
সিঙ্গুরের জমি ও অতীত বিতর্ক নিয়ে বড় বার্তা
একসময়ের সেই উত্তাল সিঙ্গুর আন্দোলন এবং টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রজেক্টের দেশত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, শিল্পের নামে কৃষকদের জোর করে উচ্ছেদ করা বা তাঁদের ওপর পুলিশি জুলুম চালানোর কোনো প্রশ্নই এই সরকারের আমলে নেই। তবে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতির স্বার্থে শিল্পপতিরা সরাসরি জমি কিনতে চাইলে বা প্রয়োজন পড়লে সরকারও তাতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এক লক্ষ কোটির মেগা টার্গেট ও ল্যান্ড ব্যাংক পরিকল্পনা
সিঙ্গুর সহ গোটা রাজ্যে শিল্পের চাকা সচল করতে একগুচ্ছ কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী:
-
উদ্ধার হওয়া জমির ব্যবহার: বিগত দিনে জবরদখল হয়ে থাকা বা অব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ওই জমিতে কাজ শুরু করতে হবে, অন্যথায় সেই জমি সরকারের কাছে ফেরত দিতে হবে।
-
নাবার্ডের (NABARD) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ: শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট জমি কিনে একটি শক্তিশালী ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ বা জমির ভাণ্ডার তৈরি করতে ইতিমধ্যে নাবার্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে রাজ্য।
-
বড় বিনিয়োগের লক্ষ্য: সরকারের হাতে মজুত থাকা এবং উদ্ধার হওয়া জমিগুলিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ টানার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সিঙ্গুরের মাটিতে ফের ভারী শিল্পের চাকা ঘোরার এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও অর্থনৈতিক চর্চা।