ইভিএম এনেছিল কংগ্রেসই, আজ কেন প্রশ্ন? এসআইআর বিতর্ক নিয়ে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টিকে তুলোধনা বৈষ্ণবের

এসআইআর (SIR) ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে যখন কেন্দ্রকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছেন বিরোধীরা, তখন এবার সুর চড়াল শাসক শিবিরও। কংগ্রেসের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তীব্র আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই না করে সংসদের অন্দরে এসে যেকোনো বিষয়ে মুখোমুখি বিতর্ক হোক। সরকার কোনো কিছুতেই ভয় পায় না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

১. এসআইআর ও ইভিএম নিয়ে কংগ্রেসকে একহাত

বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য দূর করো’ প্রচারাভিযানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, একটি সঠিক ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা হলো সুস্থ গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। ১৯৪৭ সাল থেকে দেশের সংবিধান মেনে বহুবার এই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কংগ্রেস জমানাতেও এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছিল।

ইভিএম (EVM) প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে তুলোধনা করে মন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস দলই দেশে ইভিএম নিয়ে এসেছিল। আজ তারাই কোন যুক্তিতে ইভিএম ও এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলছে? কংগ্রেস যদি সত্যই বিতর্ক করতে চায়, তবে তাদের সংসদে আসা উচিত।” শুধু তাই নয়, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি এও বলেন যে সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ঠিকই ওয়াকআউট করবে।

২. “সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, লড়াই হোক সংসদের পবিত্র কক্ষে”

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিত্তিহীন প্রচার না চালিয়ে সংসদের পবিত্র কক্ষে এসে লড়াই করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী। দেশের অর্জিত শক্তি আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চেও দৃশ্যমান।

৩. অটল-আদভানির আদর্শ বনাম বর্তমান রাজনীতির তুলনা

বক্তৃতার শেষে প্রবীণ বিজেপি নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, অতীতে তাঁরা দীর্ঘ ৫০ বছর বিরোধী দলে কাটিয়েছেন। কিন্তু তৎকালীন সময়ে অটল বিহারী বাজপেয়ী কিংবা লাল কৃষ্ণ আদভানির মতো বর্ষীয়ান নেতারা কখনই কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কাঠগড়ায় তোলেননি। বর্তমান বিরোধীদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন দেশের সংবিধানের পরিপন্থী বলেও তীব্র আক্রমণ শানান অশ্বিনী বৈষ্ণব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *