মহিলাদের চাকরি দিলেই EPFO-র টাকা দেবে সরকার! বাংলার নতুন শিল্পনীতিতে বড় চমক

রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে এবং বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’-এর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নতুন নীতি উন্মোচন করার পাশাপাশি আগের সরকারের জমানাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তবে অতীতের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর মূল লক্ষ্য এখন বাংলার প্রতিটি কোণায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান পৌঁছে দেওয়া।

রাজ্য সরকারের স্পষ্ট বার্তা—বাংলা এমন বিনিয়োগ চায় যা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের সুনামি তুলবে। আর এই উদ্দেশ্যেই নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের জন্য একগুচ্ছ লোভনীয় আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ইপিএফও (EPFO)-তে মিলবে সরাসরি সরকারি সহায়তা

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প ও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করেছে রাজ্য। নতুন কোম্পানি বা যারা রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের কর্মীদের ইপিএফও (EPFO)-তে কোম্পানির অংশ বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা সরাসরি মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই অনুদান রাখা হয়েছে সর্বাধিক।

  • এমএসএমই (MSME) সেক্টর: এই ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগ করলে টানা ১০ বছর ধরে ১০০ শতাংশ ইপিএফও-র টাকা দেবে রাজ্য। পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সহায়তার পরিমাণ ৫০ শতাংশ।

  • পরিষেবা ইউনিট: ২০০-র বেশি কর্মী রয়েছে এমন পরিষেবা ইউনিটে মহিলাদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ ইপিএফও-র টাকা মেটাবি রাজ্য সরকার।

  • বৃহৎ ও মেগা প্রকল্প: অগ্রাধিকার প্রাপ্ত এলাকায় অন্তত ২০০ জন (বা অন্যত্র ৪০০ জন) কর্মী থাকা বৃহৎ ইউনিট এবং মেগা প্রকল্পে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ ইপিএফও ভর্তুকি দেওয়া হবে।

কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে এই সুবিধা?

নতুন এই শিল্পনীতির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এর আওতায় রাখা হয়েছে:

  • এমএসএমই (MSME) সেক্টর।

  • বড় উৎপাদনকারী ও অন্যান্য ব্যবসা বা বৃহৎ ইউনিট।

  • মেগা প্রকল্প (খুব বড় বা কৌশলগত প্রকল্প)।

  • আইটি (IT), স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, আর্থিক পরিষেবা ও শিক্ষা সেক্টর।

  • অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং রুগ্ন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা

অলাভজনক ভিত্তিতে পরিচালিত হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অনুরূপ প্রতিষ্ঠান এবং সিএসআর (CSR) তহবিলে চলা সংস্থাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ প্রণোদনা। শর্ত হিসেবে তাদের রাজ্যে অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এবং ১০ বছর ধরে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য পরিষেবার অন্তত এক-চতুর্থাংশ সংরক্ষিত রাখতে হবে। এর বিনিময়ে তারা পাবে ১০০% পর্যন্ত স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়, জমির চরিত্র বদল (Conversion) ফি মকুব এবং নেট মিটারিংয়ের সুবিধা।

আর্থিক সুবিধার বাইরেও থাকছে আকর্ষণীয় ছাড়

শুধু প্রভিডেন্ট ফান্ড বা কর ছাড়ই নয়, নতুন নীতিতে শিল্পপতিদের আরও নানা সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে:

  • সবুজ বিদ্যুৎ: ২০৩০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য বা সবুজ বিদ্যুতের (Green Energy) ওপেন অ্যাক্সেসে সারচার্জ মকুব করা হয়েছে।

  • পরিষেবা ইউনিট: ৫ বছরের সময়সীমায় এসজিএসটি (SGST) আর্থিক সহায়তা, ইপিএফ সহায়তা, বিদ্যুৎ শুল্কে ছাড় এবং লিজ নেওয়া জায়গার ভাড়ায় বিশেষ সাহায্য মিলবে।

  • উৎপাদনকারী ইউনিট: এসজিএসটি সহায়তা, ৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক ছাড়, প্রকল্পের জমিতে স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় এবং গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *