কালীপুজোয় চোখে বাজির কণা গেলে করবেন কী? জেনে নিন এই ৫ জরুরি টিপস

আসছে রবিবার, ৮ নভেম্বর। আলোর উৎসবে মেতে উঠতে চলেছে গোটা বাংলা। ঘরে ঘরে জ্বলবে প্রদীপ ও মোমবাতি, আর আকাশ আলো করে ফাটবে তুবড়ি, রংমশাল, ফুলঝুরি কিংবা চড়কির মতো নানা বাজি। তবে আনন্দ উদযাপনের এই মুহূর্তে সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের বিপদ। বাজির ফুলকি বা ধোঁয়া থেকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার চোখ। তাই এই দীপাবলিতে চোখের সুরক্ষায় কী কী সতর্কতা মানবেন, সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন কনসালট্যান্ট অফথ্যালমোলজিস্ট ডা. গুঞ্জা চৌধুরী।

১. সাধারণ চশমা ব্যবহারের অভ্যাস করুন

উৎসবের রাতে চোখ সুরক্ষিত রাখতে একটি সহজ উপায় অবলম্বন করতে পারেন। কোনও পাওয়ার না থাকলেও সাধারণ বা পাজরা চশমা পরলে অনেকটাই উপকার পাওয়া যায়। এর ফলে বাজির ছিটকে আসা ফুলকি বা রাসায়নিক সরাসরি চোখের সংস্পর্শে আসতে পারে না।

২. পাত্র চাপা দিয়ে বাজি ফাটানো থেকে বিরত থাকুন

অনেকেই বাজি ফাটার সময় তার ওপরে মাটির হাঁড়ি বা অন্য কোনও ধাতব পাত্র চাপা দিয়ে রাখেন। এই পদ্ধতিটি মারাত্মক বিপজ্জনক। আচমকা তীব্র বিস্ফোরণে পাত্রের টুকরো বা তীব্র চাপ চোখের ও মুখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অতীতেও এমন অসাবধানতার কারণে বহু মানুষ গুরুতর চোট পেয়েছেন। তাই এই অভ্যাস সম্পূর্ণ বর্জন করুন।

৩. হাত পরিষ্কার না করে চোখে হাত দেবেন না

বাজি ফাটানোর পরপরই চোখে হাত দেওয়ার অভ্যেস থাকলে তা আজই বদলান। বাজি ধরার পরে এবং চোখে বা মুখে হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। বাজিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ চোখে গেলে তীব্র জ্বালাভাব, চুলকানি এমনকি চোখের স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।

৪. না ফাটা বাজির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন

কোনো বাজি জ্বালানোর পর অনেক সময় তা সঙ্গে সঙ্গে না ফেটে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কৌতূহলবশত বাজিটির খুব কাছে চলে যাবেন না। পর্যাপ্ত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও বাজি না ফাটলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

৫. কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা

যাঁরা নিয়মিত কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, উৎসবের দিনগুলিতে তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত তাপ বা আগুনের সংস্পর্শে থাকলে চোখে অস্বস্তি ও গুরুতর জ্বালাপোড়া হতে পারে।

চোখে বাজির ফুলকি বা কণা ঢুকলে তাৎক্ষণিক করণীয়

  • জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন: চোখের ভিতর কোনো জ্বলন্ত কণা বা গরম স্ফুলিঙ্গ ঢুকে গেলে কালক্ষেপ না করে পরিষ্কার জল (কলের জল বা পানীয় জল) দিয়ে অন্তত ১০ মিনিট চোখ ভালো করে ধুয়ে নিন।

  • বরফ সেঁক দিন: সম্ভব হলে চোখের চারপাশে বরফ বা ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন।

  • চোখ ঘষবেন না: চোখে আঘাত লাগলে ভুলেও চোখ ঘষবেন না। এর ফলে চোখের ভেতরের সূক্ষ্ম টিস্যু আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

  • ঘরোয়া টোটকা এড়িয়ে চলুন: চোখে বা চোখের চারপাশে কখনই হলুদ গুঁড়ো, নারকেল তেল বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান প্রয়োগ করবেন না।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: প্রাথমিক পদক্ষেপে আরাম না মিললে যত দ্রুত সম্ভব কাছাকাছি কোনো চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। দীপাবলির রাতে বহু চোখের হাসপাতালেই জরুরি চিকিৎসার বিশেষ ব্যবস্থা থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *