“বাবরের নামে মসজিদ হতে দেব না!” হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর, পাল্টা আদালতের হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের—তুঙ্গে তুমুল সংঘাত!

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই মহাধুমধামে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনি। যে খবর নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের এত দিন পরেও বেলডাঙা-রেজিনগর এলাকায় প্রস্তাবিত সেই বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ বিশেষ এগোয়নি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির শীর্ষ নেতা হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, প্রশাসনের তরফ থেকে জমি সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি না দেওয়ার কারণেই থমকে রয়েছে কাজ। অন্যদিকে, এই জলঘোলার মাঝেই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, বাবরের নামে কোনো ধরনের নির্মাণের অনুমতি মিলবে না। তবে দমার পাত্র নন হুমায়ুনও; প্রয়োজনে তিনি আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

“আমাদর অবহেলা করা হচ্ছে!” ক্ষোভ হুমায়ুনের

প্রস্তাবিত মসজিদের কাজ কতদূর এগোল, জানতে চাওয়া হলে চরম ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “আমাদের ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অত্যন্ত নিয়ম মেনে যে জমি কেনা হয়েছে, তার মিউটেশন ও কনভার্সন আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজগুলোতে অবহেলা করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা মিলছে না।”

“বাবর লুটেরা ছিল, ওর নামে অনুমতি নয়”: মুখ্যমন্ত্রী

তবে হুমায়ুনের এই অভিযোগ ও পরিকল্পনার বিষয়ে মুখ খুলে নিজের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাবরের নাম জড়িয়ে থাকলে এই রাজ্যের মাটিতে কোনো অনুমতিই দেওয়া সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “একটি নয়, নিজের জমিতে ১০০টি মসজিদ বানান। কোনো সমস্যা নেই। মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা গুরুদ্বারের অধিকার আমাদের দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে দিয়েছে। কিন্তু বাবর ভারতের কেউ ছিল না, সে ছিল স্রেফ এক জন বিদেশি লুটেরা। তাই বাবরের নামে কোনো কিছুর অনুমতি মিলবে না। গায়ের জোরে করতে গেলে তার ফল তো ভুগতেই হবে।”

শুভেন্দু আরও যোগ করেন যে, হুমায়ুন কবীর এখনো সঠিক প্ল্যান অ্যাপ্রুভাল জমা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “জেলাশাসককে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া আছে—যে যে কাগজপত্র দরকার, সব জমা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে অনুমতি পেয়ে যাবেন। তবে একটাই শর্ত, বাবরের নাম সরাতে হবে। আমি হুমায়ুনবাবু আপনাকে অনুরোধও করছি, বাবরের নাম বাদ দিয়ে অন্য যেকোনো নামে পবিত্র মসজিদটি তৈরি করুন।”

“নামকরণ তো শেষে!” পাল্টা আইনি ব্যবস্থার হুমকি হুমায়ুনের

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই পাল্টা চাল চালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, “ইঁট, পাথর, বালি, সিমেন্ট কিংবা রডে তো আর বাবরের নাম লেখা থাকে না! মুখ্যমন্ত্রীর কথাই যদি মেনে নিই, তবুও বলব—নির্মাণকাজটা অন্তত শুরু হতে দিন। উনি যেহেতু রাজ্যের সাংবিধানিক সর্বোচ্চ পদে আসীন আছেন, তাই ওঁর মতামত দেওয়ার অধিকার নিশ্চয়ই রয়েছে। তবে নামকরণের বিষয়টি তো আসবে একেবারে শেষে! তখন না হয় ওঁর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে দেখা যাবে।”

একই সঙ্গে ধমক-চমকে পিছিয়ে আসবেন না জানিয়ে হুমায়ুন হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসনিক জটিলতা না মিটলে তিনি বিষয়টিকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে যেতে একেবারেই পিছপা হবেন না। সব মিলিয়ে বাবরি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *