অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ বাড়ল আরও দু’বছর! চাকরি যাওয়ার আশঙ্কার মাঝেই কেন্দ্র সরকারের বিরাট ঘোষণা!

চাকরির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার ঠিক প্রাক্কালে দেশের লক্ষাধিক অগ্নিবীরদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বস্তিদায়ক ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। বহুল আলোচিত ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের অধীনে থাকা অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বুধবার দেশের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি এই বড় সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত ملার পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কী রয়েছে নতুন এই ঘোষণায়?
এতদিনকার নিয়ম অনুযায়ী, ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের আওতায় চার বছরের মেয়াদে তরুণদের সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ করা হতো। যার মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে নিয়মিত চাকরিতে বহাল রাখার নিয়ম ছিল এবং বাকি ৭৫ শতাংশকে চার বছর পর বিদায় নিতে হতো। কিন্তু এবার সেই নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনা হলো।
সিডিএস জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি জানান, যাঁদের চার বছরের মেয়াদ প্রায় শেষের পথে, তাঁরা এখন থেকে আরও দুই বছর অতিরিক্ত কাজ করার সুযোগ পাবেন। এই অতিরিক্ত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, তাঁরা নির্দিষ্ট বাছাই প্রক্রিয়ার শর্তাবলি ও মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফলে প্রায় ১৮ হাজার অগ্নিবীরের চাকরি হারানোর যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত দূর হলো।
কী বলছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং?
কেন্দ্রীয় সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ একটি পোস্টে তিনি এই পদক্ষেপকে ‘সেকেন্ড ট্যুর অফ ডিউটি’ (দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যকাল) হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
রাজনাথ সিং লিখেছেন, “এই সিদ্ধান্তটি আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা। এর লক্ষ্য হল অপেক্ষাকৃত তরুণ, অধিকতর সক্ষম এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলা। এটি কেবল একটি নিয়োগ নীতি নয়, বরং যুদ্ধের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক দূরদর্শী পদক্ষেপ।”
২০২২ সালে চালু হওয়া এই অগ্নিপথ প্রকল্পে এই নয়া সংশোধনের ফলে দেশের তরুণ সমাজ ও হবু জওয়ানদের মধ্যে যে নতুন উন্মাদনা ও স্বস্তি ফিরবে, তা বলাই বাহুল্য।