“বাবা-মাকে হারিয়েও সে জানে না কি ঘটে গেছে!” দেরাদুনে মর্মান্তিক লরি দুর্ঘটনায় ধ্বংস গোটা পরিবার!

হর্ষোৎসদের আনন্দের মাঝেই এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ঘটে গেল এক বীভৎস দুর্ঘটনা। উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাহারানপুরের একই পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট চারজন। দ্রুতগামী একটি অতিরিক্ত বোঝাই কন্টেইনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে উল্টে পড়ে একটি যাত্রীবাহী গাড়ির ওপর। যার জেরে ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সকলের। তবে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির মাঝেও একটাই স্বস্তির খবর—গাড়িতে থাকা মাত্র ছয় বছরের একটি ছোট্ট শিশু অলৌকিকভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে।

কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহারানপুরের গোকুল ধাম কলোনির বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সি বিশেষ কাপুর গত বুধবার বিকেল ৪টা নাগাদ তাঁর মা কিরণ কাপুর (৬৩), স্ত্রী নিশা কাপুর (৩৮) এবং ছয় বছরের ছেলে মেহেরকে নিয়ে দেরাদুনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক নীরজ। দেরাদুনে বসবাসকারী বিশেষ কাপুরের ছোট ভাই দীপেশ কাপুরের পরিবারের সঙ্গেই দেখা করতে যাচ্ছিলেন তাঁরা।

কিন্তু দেরাদুনের মহব্বেওয়ালা এলাকায় পৌঁছাতেই ঘটে বিপত্তি। সার বোঝাই একটি অতিরিক্ত ভারী কন্টেইনার হঠাৎ করেই তাঁদের গাড়িটির ওপর উল্টে পড়ে। দানবাকৃতি ওই কন্টেইনারটির নিচে আস্ত গাড়িটি সম্পূর্ণ চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়ংকর ছিল যে ঘটনাস্থলেই চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে উদ্ধার করতে হয় মৃতদেহ

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। কন্টেইনারটিতে অতিরিক্ত সার বোঝাই থাকায় এবং গাড়ির বডি মারাত্মকভাবে তুবড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকার্য চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে গ্যাস কাটার দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ কেটে ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের মৃতদেহ বাইরে বের করা হয়।

দুর্ঘটনায় বিশেষ কাপুর, তাঁর মা কিরণ, স্ত্রী নিশা এবং চালক নীরজ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। একমাত্র অবুঝ শিশু মেহের অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও এই ভয়াবহতা সে এখনও ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি। এদিকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সাহারানপুরের গোকুল ধাম কলোনিতে পৌঁছাতেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের নিকষ কালো ছায়া। পরিবারে এখন শুধু কান্নার রোল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *