অন্যের এঁঠো খাবারই ফের প্লেটে! সাগরেদিঘির চাইনিজ রেস্তোরাঁয় পুলিশের রেড, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে!

রেস্তোরাঁয় গিয়ে মুখরোচক চাইনিজ খাবার খাওয়ার শখ রয়েছে? তা হলে সাবধান! আপনার পাতে দেওয়া খাবারটি অন্য কারও ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট বা পচা বাসি খাবার নয় তো? মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির এক নামী চাইনিজ রেস্তোরাঁয় পুলিশের আচমকা অভিযানে সামনে এল এমনই এক শিউরে ওঠার মতো জঘন্য তথ্য।
গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁ থেকে প্রচুর পরিমাণে বাসি, পচা ও ছত্রাক ধরে যাওয়া খাবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁর মালিককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কীভাবে সামনে এল এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরদিঘির ওই চাইনিজ রেস্তোরাঁটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমানের খাবার দেওয়ার গুঞ্জন চলছিল। সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, রেস্তোরাঁটিতে আসা পূর্ববর্তী গ্রাহকদের ফেলে যাওয়া এঁঠো ও উচ্ছিষ্ট খাবার না ফেলে তা নতুন করে গরম করে বা সাজিয়ে অন্য গ্রাহকদের পরিবেশন করা হতো!
অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ দল রেস্তোরাঁটিতে আচমকা হানা দেয়। রান্নাঘর ও ফ্রিজ তল্লাশি করতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। ফ্রিজের ভেতরে রাখা ছিল কয়েক দিনের পুরোনো, পচে যাওয়া এবং স্পষ্ট ছত্রাক পড়ে যাওয়া একাধিক চাইনিজ পদ ও তৈরির উপকরণ।
তদন্তে পুলিশ, আতঙ্কে খাদ্যরসিকেরা
উদ্ধার হওয়া সমস্ত বিষাক্ত ও পচা খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির পেছনে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কী উদ্দেশ্য ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে আটক মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে সাগরদিঘি থানার পুলিশ।
উৎসব ও ছুটির দিনে রেস্তোরাঁ নির্ভর খাদ্যরসিকদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে এমন ভয়ঙ্কর ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। সাগরদিঘির অন্যান্য হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোতেও নজরদারি বাড়াচ্ছে প্রশাসন।