“সিপিএমের হাতে হাজার হাজার কর্মী খুন!” বামেদের সঙ্গে জোটে নিয়ে ফিরহাদের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

আসন্ন পুরভোটের কৌশল ও সমীকরণ নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বামেদের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের জোটে যাওয়ার সম্ভাবনায় জল ঢেলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিম। এক সময়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার সাফ বার্তা— কোনো অবস্থাতেই বামেদের সঙ্গে জোটে যাওয়া উচিত নয় তৃণমূলের।
বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অতীতের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও স্বজন হারানোর স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরামর্শ দেন তিনি।
“লড়াই করতে গিয়েই তিন বন্ধু মারা গিয়েছে!”
প্রবীণ এই নেতা সিপিএম বা বামপন্থীদের সাথে জোটের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন,
“আমরা সবাই একসময় কংগ্রেস কর্মী ছিলাম। সেখান থেকে বামেদের বিরোধিতা করতে গিয়ে বহু কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রায় ৫৬,০০০ কর্মী মারা গিয়েছেন। তারপরেও দল থেকে সেই প্রয়োজনীয় লড়াইটা দেওয়া যায়নি, কারণ কংগ্রেসের সঙ্গে দিল্লিতে সিপিএমের আঁতাত ছিল।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কাছে তখন বিজেপি কোনো ফ্যাক্টর ছিল না। আমাদের মূল লড়াই ছিল সিপিএমের বিরুদ্ধে। সেই লড়াই চালাতে গিয়ে আমার তিন বন্ধু মারা গিয়েছে, বহু সহকর্মীর হাত কেটে দেওয়া হয়েছে, অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছে। আজ সেই সিপিএমের সঙ্গে জোট করা মানে নিজেদের মৌলিক নীতি ও আদর্শকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দেওয়া।”
রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল
পুরভোটে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে কোনো অপ্রত্যক্ষ বা প্রত্যক্ষ সমঝোতার আলোচনা যখন রাজনৈতিক অন্দরে ঘুরপাক খাচ্ছিল, ঠিক তখনই ফিরহাদের এই কড়া অবস্থান তৃণমূলের পুরোনো কর্মীদের আবেগকে নতুন করে উসকে দিল। অতীত হিংসা ও হাজার হাজার কর্মীর প্রাণহানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আদর্শের সাথে সমঝোতা করে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে ওঠা অনুচিত। ফিরহাদের এই মন্তব্যের পর পুরভোটের আগে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরেই জোর রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।