চাকরি ছেড়ে হঠাৎ ‘তান্ত্রিক’ সাজ! গঙ্গারামপুরের এই নৃশংস খুনের পেছনের আসল রহস্য কী?

তখনও ঠিকমতো ভোরের আলো ফোটেনি। গা ছমছমে ভোরে গঙ্গারামপুরের ঘোষপাড়ার একটি মন্দিরে ধ্যানমগ্ন মুদ্রার মতো বসে এক ব্যক্তি। দু’হাত বুকের কাছে জড়ো করা। কিন্তু তাঁর কোলে যা রাখা ছিল, তা দেখে ভয়ে শিউরে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা— একটি রক্তমাখা কাটা মুন্ডু!
দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুরের ঘোষপাড়ায় এই রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের স্ত্রী সীমা সরকার ঘোষকে খুন করে তাঁর গলা কেটে মন্দিরে গিয়ে বসেছিল অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষ। শুধু তাই নয়, এর আগে তাকে ওই কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেও দেখা গিয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত রিন্টুকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়েছে।
কী কারণে এই চরম নৃশংসতা?
প্রায় ১৫ বছর আগে সীমার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রিন্টুর। তাঁদের দুটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন পিশাচিক রূপ ধারণ করল সে? পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে রিন্টু উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় কন্ডাক্টরের কাজ করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেন।
মৃত সীমার জ্যেঠু রাজেশ প্রামাণিক জানান, “কী একটা সমস্যা হয়েছিল, ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিল। তারপর থেকে ছোটখাটো ব্যবসা করত। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই রিন্টুর আচরণে বড়সড় পরিবর্তন আসে। হঠাৎ করে নিরামিষ খাওয়া শুরু করে। কেমন যেন ধার্মিক ও তান্ত্রিকের মতো আচরণ করত। কিন্তু ও যে এমন একটি জঘন্য কান্ড ঘটিয়ে স্ত্রীর মাথা কেটে নেবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।”
তন্ত্রসাধনার বলি গৃহবধূ?
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত কিছুদিন ধরে মাঝেমধ্যেই রিন্টুকে তান্ত্রিকের বেশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত। অবাস্তব ও অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়েই কি এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড? তন্ত্রসাধনা বা অন্য কোনো মানসিক অবসাদের জেরে স্ত্রীকে খুন করে মাথা কেটে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারী অফিসাররা।