“জেলে পাঠাতেও দ্বিধা করব না!” মুম্বই পুরসভাকে তুলে ধোলাই সুপ্রিম কোর্টের, আদালতের অবমাননায় চরম পদক্ষেপ

আদালতের নির্দেশকে সরাসরি অবমাননা করা এবং বেআইনি দখলদারদের আড়াল করার গুরুতর অভিযোগে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)-এর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মুম্বইয়ের বোরিভলিতে ‘বেস্ট’ (BEST)-এর জন্য নির্ধারিত সরকারি জমি থেকে জবরদখল হটাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএমসি কমিশনার অশ্বিনী ভিশে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নভেম্বর মাসের বেতন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে বিএমসি কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করার পাশাপাশি পুরসভাকে ৫ লক্ষ টাকার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিভিশন বেঞ্চের নজিরবিহীন কড়া অবস্থান
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, মুম্বইয়ের বোরিভলি এলাকায় প্রায় ৫,৮০০ বর্গমিটার সরকারি জমির মধ্যে ৩,৪০০ বর্গমিটার এলাকা মূলত ‘বেস্ট’-এর বাস ডিপো ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে সেই মহার্ঘ জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যায়। গত জুলাই মাসে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, আগামী তিন মাসের সময়সীমার মধ্যে ওই জমি পুরোপুরি খালি করতে হবে। তবে সেই নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার পরেও উচ্ছেদ অভিযান না চালিয়ে, উল্টে বিএমসি আদালতের কাছে আরও ৩০ দিনের অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করে।
“দখলদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন আধিকারিকরা?”
পুরসভার সময় বাড়ানোর আবেদনে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুনানি চলাকালীন তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “পুরসভার আধিকারিকরা কি তবে দখলদারদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছেন? সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশকে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখানো কোনো সাধারণ ভুল নয়, এটি এক ধরনের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত এবং বেআইনি দখলদারদের সঙ্গে যোগসাজশেরই প্রমাণ।” প্রধান বিচারপতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের গুরুত্ব না বুঝে অবিলম্বে তা পালন করা না হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জেলে পাঠাতেও দ্বিধা করবে না আদালত।
মারাঠি অনুবাদের যুক্তি খারিজ ও জরিমানা
শুনানি চলাকালীন বিএমসি-র তরফ থেকে দাবি করা হয়, দখলদারদের নথিপত্র ও শুনানি মারাঠি ভাষায় হওয়ায় তা অনুবাদ করতে গিয়ে সময় গড়িয়ে গেছে। পুরসভার এই যুক্তিকে কঠোরভাবে আক্রমণ করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি উল্লেখ করেন, যে পুর আধিকারিক আদালতে হলফনামা পেশ করেছেন তিনি নিজেই মারাঠিভাষী, ফলে অনুবাদজনিত সময় নষ্টের এই বাহানা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আদালতকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সময়সীমা বাড়ানোর এই আবেদন সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়, বকেয়া আদেশ পুরোপুরি পালন না হওয়া পর্যন্ত বিএমসি কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নভেম্বর মাসের বেতন তুলতে পারবেন না। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করার উপযুক্ত প্রমাণ আদালতে দাখিল করতে পারলে তবেই তাঁদের বেতন সংক্রান্ত বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করা হবে। শীর্ষ আদালতের এই নজিরবিহীন কড়া অবস্থানে আপাতত থরথরি কাঁপন প্রশাসনিক মহলে।