ইচ্ছেমতো প্রশ্ন করলেই কড়া শাস্তি! ২০২৭-এর মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে স্কুলগুলির জন্য বিস্ফোরক নির্দেশিকা পর্ষদের

২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হতেই স্কুলগুলির জন্য একগুচ্ছ কঠোর নিয়মের বেড়াজাল তৈরি করল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা (Madhyamik Test Exam) কীভাবে পরিচালিত হবে, প্রশ্নপত্র কারা তৈরি করবেন এবং পরীক্ষা শেষের পর সেই প্রশ্ন কোথায় জমা দিতে হবে—এই সমস্ত বিষয়ে এবার থেকে একেবারে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে পর্ষদ। মঙ্গলবার পর্ষদের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে আর ইচ্ছেমতো প্রশ্ন তৈরি কিংবা একাধিক স্কুল মিলে যৌথভাবে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে পর্ষদের কড়া নির্দেশিকা
পরীক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি এবার স্কুলের তৈরি প্রশ্নপত্রের মান নিয়েও কড়া নজরদারি চালাবে পর্ষদ। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্যজুড়ে সমস্ত স্বীকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ২০২৬ সালের দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন নির্দিষ্ট ঠিকানায় বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

কীভাবে পাঠাতে হবে প্রশ্ন? পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই প্রশ্নপত্রের স্ক্যান করা কপির পাশাপাশি একটি এডিটেবল বা সম্পাদনাযোগ্য সফট কপি পর্ষদের নির্দিষ্ট ইমেল ঠিকানায় (testpaperwbbse@gmail.com) পাঠাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, সফট কপি কোনোভাবেই পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে পাঠানো চলবে না।

বাইরের সংস্থার প্রশ্ন তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা: পর্ষদ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই বাইরের কোনো সংস্থাকে দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করানো যাবে না। বিদ্যালয়ের নিজস্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বারাই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে হবে।

সিলেবাস ও বিতর্ক এড়ানোর কড়াকড়ি: প্রশ্নপত্র অবশ্যই পর্ষদ নির্ধারিত দশম শ্রেণির নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এমন কোনো বিতর্কিত বিষয় বা প্রশ্ন রাখা যাবে না, যা নিয়ে রাজ্যের বা পর্ষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

যৌথ পরীক্ষা ও নিয়মের বেড়াজাল
আগে অনেক সময় পার্শ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় মিলে একসঙ্গে টেস্ট পরীক্ষার আয়োজন করত। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজেদের উদ্যোগেই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পর্ষদের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সূচির বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। কোনো স্কুল যদি পর্ষদের এই নির্দেশ অমান্য করে, তবে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিতে হবে এবং পর্ষদের কাছে কড়া জবাবদিহি করতে হবে।

পর্ষদ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, প্রশ্ন পাঠানোর আগে স্কুলগুলিকে তাদের নিজস্ব স্বীকৃতি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আপডেট রাখতে হবে। প্রশ্ন জমা দিলেই তা টেস্ট পেপারে প্রকাশিত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই; বরং প্রশ্ন বাছাইয়ের সময় একই প্রশ্ন বারবার এসেছে কি না এবং তা যথাযথ মাপকাঠির মধ্যে রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। পর্ষদের এই নতুন কড়া নির্দেশিকার ফলে টেস্ট পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্কুলগুলির নিজস্ব স্বাধীনতা কিছুটা খর্ব হলেও প্রশ্নপত্র তৈরিতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা যে বহুগুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *