NEET-এ বিরাট বদল আনতে চলেছে কেন্দ্র! পার্সেন্টাইল প্রথা তুলে দিয়ে এবার কি তবে মেধার ভিত্তিতেই ভর্তি?

দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় (Medical Education) বড়সড় কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে NEET-PG এবং NEET-SS-এর মতো উচ্চশিক্ষা স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘পার্সেন্টাইল-ভিত্তিক’ যোগ্যতা নির্ধারণ পদ্ধতি তুলে দেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। পরিবর্তে এবার থেকে সরাসরি র্যাঙ্ক বা মেধা তালিকার (Merit-based) ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব সামনে এনেছে একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি। গত ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের এই অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছে ১২ সদস্যের ওই কমিটি। জানা গিয়েছে, এই প্রস্তাবটিতে নীতিগতভাবে ইতিমধ্যেই সম্মতি জানিয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC), যদিও চূড়ান্ত নিয়মকানুন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
শূন্য কাট-অফ নিয়ে বিতর্ক ও নতুন কমিটির গঠন
গত কয়েক বছর ধরে NEET-PG তে শূন্য বা অত্যন্ত কম পার্সেন্টাইলে আসন পূরণের পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, ফাঁকা আসন ভরাট করার জন্য বারবার কাট-অফ নামিয়ে দেওয়ায় সামগ্রিক শিক্ষাগত মান প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ছে।
২০২৩ ও ২০২৪-এর চিত্র: ২০২৩ সালে সমস্ত বিভাগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পার্সেন্টাইল একধাক্কায় শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালেও জেনারেল ও EWS ক্যাটাগরির জন্য কাট-অফ ১৫ এবং সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য ১০ পার্সেন্টাইলে নামানো হয়।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড বিতর্ক: ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি তৃতীয় রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ের আগে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। সেই সময় জেনারেল ক্যাটাগরির কাট-অফ ৫০ থেকে কমিয়ে স্রেফ ৭ পার্সেন্টাইল এবং SC, ST ও OBC-র ক্ষেত্রে ৪০ থেকে নামিয়ে ‘শূন্য’ করে দেওয়া হয়। এর জেরে রাতারাতি অতিরিক্ত প্রায় ৯৫ হাজার ৯১৩ জন প্রার্থী কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণের যোগ্য হয়ে ওঠেন।
এই বারবার কাট-অফ কমানোর প্রবণতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০২৬ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই কেন্দ্র সরকার ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে, যাদের সাম্প্রতিক এই সুপারিশ দেশের চিকিৎসা মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবসমূহ
শুধু র্যাঙ্ক-ভিত্তিক ভর্তির সুপারিশই নয়, এই কমিটি আরও বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তাব রেখেছে:
শূন্য আসনের দোহাই দিয়ে ছাড় নয়: শুধুমাত্র আসন ফাঁকা পড়ে রয়েছে এই যুক্তিতে স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতার মান কৃত্রিমভাবে কমানো উচিত নয় বলে মত কমিটির।
ফি হ্রাস ও সার্ভিস বন্ড থেকে ছাড়: নন-ক্লিনিক্যাল পিজি কোর্সের ফি কমানোর পাশাপাশি প্রি-ক্লিনিক্যাল এবং প্যারা-ক্লিনিক্যাল বিষয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের আবশ্যিক সার্ভিস বন্ড থেকে ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কাউন্সেলিংয়ে স্বচ্ছতা: কাউন্সেলিংয়ের দীর্ঘসূত্রিতা এবং আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার পুরনো সমস্যা মেটাতেও একাধিক কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
আগামী দিনের পথ চলা
সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এই নতুন রিপোর্টের ওপর আবেদনকারীদের মতামত জানানোর জন্য সময় দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত মামলার শুনানি মুলতুবি রাখা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সাল থেকে এই নতুন নিয়ম বা মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চূড়ান্ত বিধিমালার রূপায়ণ এবং দেশের শীর্ষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশের ওপর।