ইলেকট্রিক আলোর দাপট সামলেও ঘুরে দাঁড়াল ঐতিহ্য! দীপাবলির মুখে মাটির প্রদীপের তুমুল চাহিদা, ব্যস্ত কৃষ্ণপল্লী

দীপাবলি ও কালীপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হতেই ফের চড়চড়িয়ে বাড়ছে মাটির প্রদীপের চাহিদা। একসময় চীনা টুনি লাইট ও ফ্যান্সি ইলেকট্রিক আলোর দাপটে ঐতিহ্যবাহী মাটির প্রদীপ কিছুটা হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে এবারের ছবিটা বেশ আলাদা। আলোর উৎসবে মাটির প্রদীপের গুরুত্ব ও চাহিদা একধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন দিনরাত এক করে কাজ করছেন মালদার গাজোলের কৃষ্ণপল্লী পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

রাতদিন এক করে চলছে প্রদীপ তৈরির কাজ
হিন্দু বাঙালির ঘরে ঘরে দীপাবলিতে মাটির প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কেবল এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এক আদি সামাজিক ঐতিহ্য। সেই রীতির জোগান বজায় রাখতে পালপাড়ায় এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। মৃৎশিল্পী লক্ষ্মী রানী পাল জানান, “দীপাবলির জন্য আমরা প্রায় দু-তিন মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিই। ভালো মাটি সংগ্রহ করার পর মেশিনে তা প্রস্তুত করতে বেশ সময় লাগে। তারপর হাতে ও মেশিনে রকমারি ডিজাইনের প্রদীপ গড়ে, রোদে শুকিয়ে ও রঙের প্রলেপ দিয়ে বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়।” পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, পুরুষদের পাশাপাশি পরিবারের মহিলারাও সমান তালে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে চলেছেন।

চাহিদা ফিরলেও আয়ের মুখ দেখছেন না শিল্পীরা
চীনা টুনি লাইট ও কৃত্রিম প্রদীপের দাপট কমায় চাহিদা ফিরলেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই গাজোলের শিল্পীরা। প্রদীপ তৈরির কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দামই প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যতম প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিবারণ পাল আক্ষেপের সঙ্গে জানান, “বাজারে ইলেকট্রিক সামগ্রী আসায় মাটির প্রদীপের ব্যবসা বেশ মন্দা যাচ্ছিল। গত বছরের তুলনায় এবার চাহিদা খুব ভালো হলেও আমাদের লাভ প্রায় হচ্ছেই না। কারণ মাটি, রং সহ প্রদীপ তৈরির সমস্ত উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে প্রদীপের পাইকারি দাম বাড়েনি। তা সত্ত্বেও স্রেফ পেটের টানে আর বংশপরম্পরার এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আঁকড়ে ধরে আছি।”

সরকারি সাহায্যের আবেদন
গাজোলের কৃষ্ণপল্লী পালপাড়ার তৈরি এই রঙিন ও নকশাদার প্রদীপ কেবল মালদাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; চাহিদা সামলাতে আশপাশের বিভিন্ন জেলাতেও প্রচুর পরিমাণে সরবরাহ করা হয়। বহু পরিবারের একমাত্র রুটিরুজি নির্ভর করে রয়েছে এই শিল্পের ওপর। তবে শিল্পীদের একটাই দাবি— সরকার যদি সঠিক আর্থিক সহায়তা, কাঁচামালে ভরতুকি ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে উদ্যোগী হয়, তবেই বেঁচে থাকবে বাংলার এই প্রাচীন শিল্পকর্ম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *