থার্ড এসি-র বাথরুম ও দরজার সেই বিরক্তিকর দিন শেষ! বন্দে ভারত স্লিপারের এই ডিজাইন দেখে তাজ্জব ট্রাভেলাররা

দূরপাল্লার রেলযাত্রায় যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে থাকে ভারতীয় রেল। সেই লক্ষ্যেই আত্মপ্রকাশ করতে চলা বহুল প্রতীক্ষিত ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ (Vande Bharat Sleeper) ট্রেনে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও বিশ্বমানের আধুনিক সুবিধা। এতদিন সাধারণ ট্রেনের থার্ড এসি (3AC) কোচে বাথরুম ও করিডোরের দরজার পাশের সিট নিয়ে যাত্রীদের যে নিত্যদিনের নানা অভিযোগ থাকত, বন্দে ভারত স্লিপারের বিশেষ নকশায় তার চিরস্থায়ী সমাধান করা হয়েছে।

বাথরুমের দুর্গন্ধ ও দরজার আওয়াজ থেকে স্থায়ী মুক্তি
সাধারণ এলএইচবি (LHB) কোচের থার্ড এসি-তে বাথরুমের পাশের বার্থগুলোতে করিডোরের দরজা বারবার খোলা-বন্ধের আওয়াজ এবং দুর্গন্ধের সমস্যায় পড়তে হতো যাত্রীদের। সম্প্রতি এক জনপ্রিয় ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর সোশ্যাস মিডিয়া ভিডিওতে তুলে ধরেছেন বন্দে ভারত স্লিপারের সেই মাস্টারস্ট্রোক ডিজাইন।

তিনি দেখিয়েছেন, বন্দে ভারতের থার্ড এসি কোচে প্রবেশের পর সিটের মূল অংশের মাঝখানে এক অভিনব ‘বাফার জোন’ বা ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে। যেখানে রেলের কর্মীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারবেন। এ ছাড়াও প্রথম যে অংশটি রয়েছে, সেখানে মুখোমুখি আসন না রেখে কেবল একটি সাইড বার্থ রাখা হয়েছে। ফলে বাথরুম ও গ্যালারির শোরগোল এবং দুর্গন্ধ সরাসরি কোচের মূল বার্থগুলিতে পৌঁছাতে পারবে না।

ঝাঁকুনি মুক্ত সফর ও আধুনিক কুশনিং
ভারতীয় রেলের সর্বাধুনিক সেমি হাইস্পিড ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ মূলত ইএমইউ (EMU) প্রযুক্তিতে পরিচালিত। প্রথম সংস্করণের চেয়ার কার ট্রেনসেট চেন্নাইয়ের ‘ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি’ (ICF) ডিজাইন করলেও, বন্দে ভারত স্লিপার ভার্সন তৈরি করছে ‘ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড’ (BEML)।

দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি দূর করতে এই ট্রেনের বার্থগুলিতে যুক্ত করা হয়েছে বাড়তি কুশনিং ও উন্নত বডি সাপোর্ট। একই সঙ্গে আপার ও মিডল বার্থে সহজে ওঠার জন্য ‘হিউম্যান ফ্যাক্টরস’ নীতি মেনে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ আধুনিক সিঁড়ি। প্রতিটি বার্থে থাকছে স্বতন্ত্র রিডিং লাইট, মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট এবং ওয়াটার বোটল হোল্ডার। ট্রেনের প্রতিটি কোচে অত্যাধুনিক ইন্টারলকিং কাপলার ব্যবহারের ফলে ট্রেন চলাকালীন ঝাকুনি অনেকটাই কম হবে, যা যাত্রীদের দেবে এক আরামদায়ক ও প্রিমিয়াম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *