‘সব জায়গায় আমিই প্রার্থী হলে…?,’ ভোটে হেরে এ বার ‘প্রলাপ’ বকছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কার মুখে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রাথমিক ফলাফলের ট্রেন্ড স্পষ্ট হতেই দেখা যাচ্ছে, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস—দুই কক্ষেই জোরদার ক্ষমতা দখলের পথে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয় ও ডেমোক্র্যাটদের অভাবনীয় সাফল্যের মাঝেই বিতর্কিত প্রতিক্রিয়া জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ক্ষোভ ও আত্মবিশ্বাসের সুর মিশিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নিজে প্রার্থী না থাকার কারণেই দলের এই ফলাফল হয়েছে। পোস্টটিতে ট্রাম্প লেখেন:

“আমি ব্যালটে ছিলাম না। আর যদি আমি থাকতাম, তবে আমরা বিপুল ব্যবধানে (ল্যান্ডস্লাইড) জয় পেতাম! এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”

কেন এই নির্বাচন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বড় পরীক্ষা?

উল্লেখ্য, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় না। তবে এই ভোটকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দুই বছরের কাজকর্ম এবং জনপ্রিয়তার একটি প্রধান পরীক্ষা (Referendum) হিসেবে দেখা হয়।

  • সংসদের শক্তি: বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। সেনেট ও হাউসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার ওপর নির্ভর করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের মেয়াদের বাকি দুই বছর কতটা স্বাধীনভাবে নতুন আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ ও বিচারপতি নিয়োগ করতে পারবেন।

  • ক্ষমতার সমীকরণ: প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সেনেট ও হাউসের চাবিকাঠি ছিনিয়ে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালের শেষ দু’বছর প্রশাসনিক অচলাবস্থার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনে দলের এই হতাশাজনক ফলের দায়িত্ব নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলতেই ট্রাম্প নিজের ‘জনপ্রিয়তা’ ও ব্যালটে না থাকার অযুহাত সামনে আনছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *