“আর যাই হোক তৃণমূল করব না!” কোন নতুন ‘বড় ছাতা’র নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ?

একসময়ের দাপুটে মন্ত্রী, ইংরেজবাজার পুরসভার পাঁচবারের চেয়ারম্যান এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতির দীর্ঘ ৫০ বছরের পোড় খাওয়া মুখ—কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী আজ চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্তিত্বের লড়াইয়ের মুখোমুখি। পর্যটন থেকে শুরু করে উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের দায়িত্ব সামলানো এই হেভিওয়েট নেতা বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আর যাই হোক না কেন, আমি আর তৃণমূলে ফিরব না।”
৫০ বছরের রাজনীতি, কোন পথে প্রাক্তন মন্ত্রী? ১৯৭৪ সালে প্রয়াত বরকত গনি খান চৌধুরীর হাত ধরে ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন ৬৯ বছর বয়সি কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের সূচনায় যোগ দিলেও ২০০৬-এ পুনরায় কংগ্রেসে ফেরেন এবং দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে ফের জোড়াফুল শিবিরে ফিরে উপনির্বাচনে জিতে মমতার মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি। তবে ২০১৬ পরবর্তী সময় থেকে তাঁর রাজনৈতিক পারদ নামতে থাকে। জোড়াফুলের টিকিট না পাওয়া এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দূরত্বে তিনি এখন দলহীন।
তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ নিজেই একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন:
“আমি একটা বড় ছাতার অপেক্ষায় রয়েছি। যে ছাতা অনেক বড় হবে, যার নীচে নিজের সঙ্গে আরও কয়েকজনকে বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পারব। তবে তৃণমূলে আমি আর নেই। বাকিটা সময় বলবে, কারণ রাজনীতিতে সময়ই শেষ কথা বলে।”
বিজেপি নাকি কংগ্রেস? কোন দিকে পাল্লা ভারী? কৃষ্ণেন্দুর এই ‘বড় ছাতা’র ইঙ্গিত ঘিরে এখন জোর রাজনৈতিক জল্পনা:
-
পদ্ম শিবিরের অন্দরে প্রবল বিরোধিতা: গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন পালন করে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ বিজেপিমুখী হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন। তবে মালদা দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির ৯০ শতাংশ নেতা-কর্মী তাঁকে দলে নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছেন। জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলে অন্য শিবিরের নেতাদের নেওয়া হবে না, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতৃত্বের।
-
কংগ্রেসে ফেরার বাধা ৩০টি আইনি মামলা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর একমাত্র বাস্তবসম্মত রাস্তা কংগ্রেসে ফিরে যাওয়া। সম্প্রতি ১ নভেম্বর গনি খানের জন্মশতবার্ষিকীতে কোতোয়ালি ভবনে গিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরীর পাশে বসে রক্তদান শিবিরের উদ্বোধনও করেছেন তিনি। ইশা খান চৌধুরী বলেছেন, “দলীয় নীতি মেনে কেউ আসতে চাইলে দরজা খোলা।” তবে অনুগামীদের মতে, এখনও তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ৩০টি পুরনো মামলা ঝুলছে। কংগ্রেসে যোগ দিলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সেই মামলাগুলি নিয়ে ফের নাড়াচাড়া হতে পারে—এই আশঙ্কাই তাঁকে ভাবাচ্ছে।
বাম আমলে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি কাঁপানো এই বরকত-শিষ্য এখন জীবনের সবচেয়ে বড় আইনি ও রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তিনি শেষ পর্যন্ত কোন পতাকার নিচে আশ্রয় নেন, তার ওপর নজর রাখছে গোটা রাজ্য রাজনীতি।
রাজনৈতিক প্রতিবেদনটি পুনর্লিখন করা হয়েছে। আপনার কি এই বিষয়ে বা অন্য কোনো সংবাদ সংক্রান্ত আরও কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে?