আজও উত্তাল বাংলাদেশ, ফের তীব্র অশান্তি, দফায় দফায় রণক্ষেত্র সড়ক-মেট্রো!

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশজুড়ে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। দফায় দফায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজিপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলগুলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয়েছে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, এই শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে। আন্দোলন রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দেদার ধরপাকড়।
যানবাহন স্তব্ধ ও মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক। গাজিপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়, যার ফলে অচল হয়ে পড়ে পুরো যান চলাচল।
ভোগড়া এলাকায় অবরোধ সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুঁড়লে পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। গাজিপুরের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাজিপুরের অন্তত ৬০টি পোশাক কারখানায় তড়িঘড়ি ‘ছুটি’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
একইভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঢাকার মিরপুর এলাকাও। সংঘর্ষ ও অশান্তির জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ এবং পল্লবী স্টেশন।
আহত বহু পুলিশকর্মী, বিজিবি মোতায়েন
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিক্ষোভ থামাতে গিয়ে সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। সোমবারও ওই এলাকায় ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন। আন্দোলন সামাল দিতে সেখানের শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
সমগ্র দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রচুর সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পেছনে কি আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র?
বাংলাদেশ সরকার যদিও শ্রমিকদের দাবি খতিয়ে দেখতে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, তাও থামছে না বিক্ষোভ। সরকারের তরফ থেকে অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের দিকে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উভয়েই জানান, আন্দোলনের নামে যে হিংসার ঘটনা ঘটছে তার নেপথ্যে আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও উসকানি রয়েছে। আন্দোলন মোকাবিলার পাশাপাশি এই ধরনের চক্রান্ত রুখতে পুলিশ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।