স্কুলে গেলেই কি আর মিলবে না মোবাইল? ৩ নভেম্বর থেকে বড় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতেই ফুঁসছেন অভিভাবকরা!

পঠনপাঠনে মনোযোগ বাড়াতে এবং ক্লাসরুমে ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে এবার স্কুল চত্বরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল মেক্সিকো সরকার। প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম প্রশাসনের এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে গত ৩ নভেম্বর থেকেই। দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই নতুন নির্দেশিকা আনা হলেও, অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও তুমুল বিতর্ক।

কী রয়েছে নতুন নিয়মে? সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রকের যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি দূর করতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়মের মূল দিকগুলি হলো:

  • সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: ক্লাস চলাকালীন তো বটেই, এমনকি স্কুলের টিফিন বা ছুটির বিরতির সময়ও ফোন ব্যবহার করা যাবে না।

  • নির্দিষ্ট কিছু ছাড়: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে কোনো শিক্ষামূলক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারের বিশেষ ছাড় মিলবে।

  • জরুরি কালীন ছাড়: ব্যক্তিগত জরুরি পরিস্থিতি, শারীরিক অক্ষমতা কিংবা বিশেষ স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে ফোন ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। এছাড়া স্কুলে যাতায়াতের সময় পড়ুয়ারা ব্যাগে মোবাইল সঙ্গে রাখতে পারবে।

⚠️ অভিভাবকদের তীব্র বিরোধিতার আসল কারণ কী?

সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের পেছনে যুক্তিসংগত কারণ থাকলেও, মেক্সিকোর সিনালোয়া (Sinaloa) ও তামাউলিপাসের (Tamaulipas) মতো গ্যাং-যুদ্ধ ও হিংসাপ্রবণ এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। অভিভাবকদের বক্তব্য, অপরাধপ্রবণ অঞ্চলে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হলো মোবাইল ফোন।

এর পেছনে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ উদাহরণের কথাও তুলে ধরেছেন তাঁরা। গত ২২ অক্টোবর সিনালোয়ার এসকুইনাপায় স্কুল পড়ুয়াদের বহনকারী একটি বাসে মোটরবাইক থেকে অতর্কিত গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। বাসে থাকা এক ডজনেরও বেশি শিশু আতঙ্কে সিটের আড়ালে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচায়, যে হামলায় গুরুতর আহত হন বাসচালক।

চাইল্ড রাইটস অর্গানাইজেশন ‘REDIM’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসেই ০ থেকে ১৭ বছর বয়সি ১০ জন শিশুর মধ্যে অন্তত একজন সংগঠিত অপরাধ ও হিংসার শিকার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল কেড়ে নিলে সন্তানদের নিরাপত্তা আরও বিপন্ন হবে বলে আশঙ্কা অভিভাবকদের।

🏛️ সরকারের যুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রবণতা

মেক্সিকোর শিক্ষামন্ত্রী মারিও দেলগাদো জানিয়েছেন, শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের হাত থেকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত। গবেষকদের একাংশের মতেও, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম পড়ুয়াদের মানসিক অবসাদ বাড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, শুধু মেক্সিকোই নয়, ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের ১১৪টি দেশের স্কুলগুলিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কোনো না কোনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ফ্রান্স, ব্রাজিল, চিলি ও ইকুয়েডরের মতো দেশগুলিও একই পথে হেঁটে সাফল্য পেয়েছে। তবে হিংসা কবলিত এলাকায় বাচ্চাদের নিরাপত্তার সঙ্গে পড়াশোনার এই নীতি কীভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *