“বিদেশের সাহায্যে টিকে আছেন মোদী!” স্ট্যাচু অফ ইউনিটি থেকে প্রধানমন্ত্রীর তোপের পর রাহুলের বিস্ফোরক পাল্টা চ্যালেঞ্জ

গুজরাটের একতা নগরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী অর্থাৎ ‘জাতীয় একতা দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ভাষণ এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোলা দেশবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন সলতে পাকানো শুরু হলো। প্রধানমন্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ একলপ্তে খারিজ করে দিয়ে এবার সোজাসুজি মোদীকে বিঁধলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে তীক্ষ্ণ নিশানা করে রাহুল অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তির অনুচিত সাহায্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং এখনও পর্যন্ত সেই সাহায্যের ভরসাতেই নিজের পদে টিকে রয়েছেন!
‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’র মঞ্চ থেকে মোদীর তোপ: এর আগে গুজরাটের বিশ্ববিখ্যাত ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিরোধী শিবিরকে তীব্র কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতন্ত্রে বিরোধীদের মূল কাজ সরকারের নীতি ও রূপরেখা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, ভারতের বর্তমান বিরোধীরা আজ স্রেফ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী এক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বারবার নির্বাচনে হেরে ও হতাশায় ভুগে কিছু রাজনৈতিক শক্তি এখন দেশের ভেতরে প্রকাশ্যে বিভাজন তৈরির চক্রান্তে নেমে পড়েছে।”
এর পাশাপাশি বেশ কিছু বিরোধী নেতার আন্তর্জাতিক সফরের সময় বিদেশে গিয়ে করা গোপন বৈঠক এবং ভারতবিরোধী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে তথাকথিত আঁতাতের প্রসঙ্গ তুলে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিদেশে কে কার সঙ্গে গোপনে দেখা করছে? ভারতবিরোধী শক্তিগুলি কাকে পিছন থেকে সমর্থন জোগাচ্ছে এবং কাদের মুখে আজ দেশের শত্রুদের ভাষা শোনা যাচ্ছে? এই সমস্ত গভীর ছক আমাদের দেশবাসীকে চিনে নিতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে।”
“মুখোমুখি বসুন, মিথ্যা বলা বন্ধ করুন” — রাহুলের পাল্টা মেগা চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে চরম আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোজাসুজি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে রাহুল লেখেন, “দেশবাসীর কাছে মিথ্যা বলা অবিলম্বে বন্ধ করুন! আপনি নিজে বিদেশি সাহায্যের ওপর সরাসরি নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং সেই আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্যই আজ এত বছর পর আজও পদে টিকে রয়েছেন।”
কংগ্রেস সাংসদের গুরুতর দাবি, দেশের বর্তমান আর্থিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বিদেশি স্বার্থের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সামাজিক মাধ্যম (Social Media) প্ল্যাটফর্ম রাজনৈতিকভাবে মোদীকে অনুচিত ও অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে।
নিজের সত্যতা প্রমাণের দাবি তুলে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে যে কোনো সময়ে এবং যে কোনো নিরপেক্ষ মঞ্চে প্রকাশ্যে মুখোমুখি বিতর্কের খোলা আহ্বান জানিয়েছেন। রাহুল আরও কটাক্ষ করে বলেন, সরকারের অন্দরে থাকা একাধিক গোপন তথ্য ও সত্যি প্রকাশ্যে চলে আসার চরম ভয়েই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কোনো দিন মুখোমুখি আলোচনায় বসতে সাহস পান না। সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীর দিন দুই শীর্ষ নেতার এই প্রত্যক্ষ মুখোমুখি সংঘাত দেশের রাজনীতিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল।