“ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাও!” ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে ৫ লক্ষের জমায়েত ও ৩০ কিমি মহাসড়ক অবরোধের চরম হুঁশিয়ারি

আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনার পারদ চড়ল। এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে এবার একলাফে ৫ লক্ষ মানুষের বিশালাকার জমায়েতের ডাক দিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার প্রভাবশালী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুধু বিপুল জনসমাগমই নয়, ৬ ডিসেম্বর দিনটিতে দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার জুড়ে জাতীয় সড়ক স্তব্ধ করে দেওয়ার খোলাখুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের উদ্দেশে সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তাঁর বক্তব্য—”ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক!”

সোমবার বেলডাঙায় আয়োজিত একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক সুর চড়ান হুমায়ুন কবীর। তিনি স্পষ্ট জানান, ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই কর্মসূচি সফল করতে কৃষ্ণনগর, ডোমকল, জলঙ্গি, সাঁইথিয়া, কান্দি এবং বর্ধমান-নবদ্বীপ সেতু সংলগ্ন অঞ্চলগুলি থেকেও হাজার হাজার সমর্থককে রাস্তায় নেমে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তাঁর দাবি, হাজারো উত্তেজনার মাঝেও তাঁর সমর্থকেরা স্বউদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।

৫ লক্ষের জমায়েত ও ৮৭ কোটির মেগা রূপরেখা: হুমায়ুন কবীরের এই ঘোষণার পর থেকেই পুরো মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক মহলে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। বেলডাঙায় প্রস্তাবিত এই মসজিদের জন্য এক বিরাট রূপরেখা পেশ করেছেন তিনি:

  • বিশাল জমায়েতের দাবি: ৬ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত মসজিদ চত্বরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে বলে দাবি বিধায়কের।

  • মেগা বাজেট ও ধারণক্ষমতা: প্রায় ৮৭ কোটি টাকা আনুমানিক ব্যয়ে এক দৃষ্টিনন্দন দোতলা মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই নতুন মসজিদে একসঙ্গে অন্তত ৮০ হাজার মানুষ অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে নমাজ আদায় করতে পারবেন।

  • উদ্বোধনের সময়সীমা: হুমায়ুন কবীর চূড়ান্ত ঘোষণা করে জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের কাজ দ্রুত শেষ করে ২০২৮ সালের ঠিক ৬ ডিসেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য উদ্বোধন করা হবে।

কেন ৬ ডিসেম্বর তারিখটি অত্যন্ত সংবেদনশীল? উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই বিতর্কিত ও সংবেদনশীল ঘটনার বর্ষপূর্তির বিশেষ দিনটিকেই বেছে নিয়ে বেলডাঙায় নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। যার জেরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

একদিকে বিপুল জনসমাগমের দাবি ও ৩০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করার হুমকি, অন্যদিকে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা—সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে জনজীবন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাই এখন রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ৫ লক্ষ মানুষের উপস্থিতির যে দাবি করা হয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত বিধায়কের নিজস্ব রাজনৈতিক বক্তব্য হলেও, সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই আঁটসাঁট নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *