রাত পোহালেই দিল্লি! যোগীরাজ্যের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারতের সময়সূচি ও চমকপ্রদ ভাড়া জানলে চমকে যাবেন

বারাণসী থেকে নতুন দিল্লি: রাতের ঘুম কাড়তে নয়, বরং শান্তিতে ঘুমিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ট্র্যাকে নেমে পড়ল দেশের বহুল প্রতীক্ষিত স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।
উত্তর প্রদেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনটি আজ থেকে বারাণসী এবং নতুন দিল্লির মধ্যে তাদের নিয়মিত চলাচল শুরু করছে। গত ৩১শে অক্টোবর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যৌথভাবে বিশেষ এই দূরপাল্লার ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করেন।
ট্রেনের সময়সূচি ও গতিপথ
২৭৪২১ নম্বরের এই স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসটি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিন নিয়মিত চলাচল করবে। বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন রাত ৮:৫০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়বে। যাত্রাপথে রাত ১০:৩৫ মিনিটে প্রয়াগরাজ, রাত ১২:৪০ মিনিটে কানপুর সেন্ট্রাল, ভোর ৩:৫৫ মিনিটে আলিগড় এবং ভোর ৫:২৩ মিনিটে গাজিয়াবাদ ছুঁয়ে সকাল ৬:১০ মিনিটে এটি পৌঁছে যাবে নতুন দিল্লি স্টেশনে।
বারাণসী থেকে দিল্লি পৌঁছাতে এই ট্রেনের সময় লাগবে মাত্র ৯ ঘণ্টা ২০ মিনিট। রাতের বেলা আরামে ঘুমিয়ে দূরপাল্লার সফর সম্পন্ন করার জন্য এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যদিও চেয়ার কার বন্দে ভারতের তুলনায় এটি গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় বেশি নেবে, তবে রাতের যাত্রার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধার দিক থেকে এটি অনন্য।
শিব গঙ্গার চেয়ে দ্রুত, কিন্তু ভাড়া কত?
বারাণসী ও দিল্লির মধ্যকার জনপ্রিয় ‘শিব গঙ্গা এক্সপ্রেস’-এর যেখানে পুরো দূরত্ব অতিক্রম করতে ১০ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে, সেখানে স্লিপার বন্দে ভারত অনেকটাই এগিয়ে।
ভাড়ার ক্ষেত্রে নজর দিলে দেখা যাবে:
-
থার্ড এসি (3rd AC): ১,৯১৫ টাকা (যা সাধারণ বন্দে ভারত চেয়ার কারের ভাড়ার চেয়ে ১৩৫ টাকা বেশি)।
-
সেকেন্ড এসি (2nd AC): ২,৪৭০ টাকা।
-
ফার্স্ট এসি (1st AC): ৩,০৩০ টাকা।
তুলনামূলকভাবে, শিব গঙ্গা এক্সপ্রেসে থার্ড এসি-র ভাড়া ১,১৭০ টাকা, সেকেন্ড এসি ১,৬৪০ টাকা এবং ফার্স্ট এসি-র ভাড়া ২,৭২৫ টাকা।
দিওয়ালি পর্যন্ত সব টিকিট বুকড!
নতুন এই বিলাসবহুল ট্রেনের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উন্মুখতা দেখা গেছে। আগামী দিওয়ালি উৎসব পর্যন্ত এই ট্রেনের সমস্ত ক্লাসের টিকিট ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ বুক হয়ে গেছে। নিরাপদ, ঝাকুনিহীন এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হওয়ার কারণেই যাত্রীদের থেকে এমন অভাবনীয় সাড়া মিলছে।
পুরো ট্রেনটিতে মোট ১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) কোচ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি থার্ড এসি, ৪টি সেকেন্ড এসি এবং ১টি বিশেষ ফার্স্ট এসি কোচ। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার গতিবেগে চলার মতো শক্তিশালী প্রযুক্তি দিয়ে এই ট্রেনটি তৈরি করা হয়েছে।